কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে বয়স্কভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র বয়স্কদের কাছ থেকে জনপ্রতি কয়েক হাজার টাকা নিয়ে ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে ৭ হাজার টাকায় সমঝোতা করে অনেকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বয়স্কদের ভাতা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমাদের বলা হয়েছে টাকা দিলে দ্রুত নাম উঠবে। পরে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তালিকায় নাম এসেছে।”
আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, “যারা টাকা দিতে পারেনি বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়নি।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে এমন অনিয়ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, দরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে তালিকা প্রণয়ন করা হলে সরকারের মানবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমানুর রহমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য রাজু আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে চেয়ারম্যান ইমানুর রহমানের মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য মেলেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র বয়স্কদের স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভাতার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।