ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা সারা দেশের মতো মানিকপুরের অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, ধর্মীয় উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে মানিকপুরের প্রধান ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভোরের আলো ফুটতেই মানিকপুর গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তথা সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা নতুন পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি মেখে ঈদগাহ ময়দানের দিকে রওনা হন। সকাল সাড়ে ৭টার আগেই মানিকপুর ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অসংখ্য মুসল্লি এই জামাতে অংশ নিতে সমবেত হন।
ঠিক সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে নামাজের জামাত শুরু হয়। ইমাম সাহেবের পরিচালনায় অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সাথে দুই রাকাত ঈদুল আজহার ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন উপস্থিত মুসল্লিরা। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়। নামাজ শেষে ইমাম সাহেব উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে ঈদের তাৎপর্যপূর্ণ খুতবা পাঠ করেন। খুতবায় তিনি, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
খুতবা পাঠ শেষে শুরু হয় পরম কাঙ্ক্ষিত আখেরি মোনাজাত। মোনাজাতে মানিকপুর গ্রামবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা করা হয়। একই সাথে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও জাতির শান্তি, স্থীতিশীলতা এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত চলাকালীন আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনায় অনেক মুসল্লিকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো ঈদগাহ ময়দানে।
নামাজ ও মোনাজাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ঈদের আসল আনন্দ বিনিময়। শত বছরের বাঙালি মুসলিম ঐতিহ্য বজায় রেখে ঈদগাহ ময়দানেই মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা (ঈদ মোবারক) বিনিময় করেন। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়ো সব ভেদাভেদ ভুলে মানিকপুর গ্রামবাসী এক আনন্দঘন পরিবেশে মেতে ওঠেন।
ঈদগাহ ময়দান থেকে বের হয়ে মুসল্লিরা যার যার সাধ্যমতো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির প্রস্তুতি শুরু করেন।