একজন প্রশাসকের সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তাঁর কাজের সুফল পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের জীবনে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা এবং শিক্ষাবান্ধব নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কায়েসুর রহমান। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নোয়াখালী জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার’ নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ অর্জনের খবরে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন মহলে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নোয়াখালীর ৯ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান, নেতৃত্ব, তদারকি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কায়েসুর রহমানকে জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে মাঠপর্যায়ে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়। বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কায়েসুর রহমান বলেন, 'আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আগামীতেও সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।'
তাঁর এই বিনয়ী বক্তব্যই প্রমাণ করে, একজন সত্যিকারের নেতৃত্বগুণসম্পন্ন কর্মকর্তা নিজের সাফল্যকে কখনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না; বরং সহকর্মীদের অবদানকেও সমান গুরুত্ব দেন।
এখন জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। বেগমগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সততা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখে কায়েসুর রহমান বিভাগীয় পর্যায়েও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। সেই ভিত্তিকে আরও মজবুত করতে যারা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, কায়েসুর রহমান তাঁদেরই একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি। তাঁর এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং বেগমগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও এক গর্বের অর্জন।