রাজশাহীর বাগমারায় ওসি (তদন্ত)'র বিরুদ্ধে অবৈধ পন্থায় অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্থ নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হবার কয়েকঘন্টা পরেই অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানায় সূত্র। অভিযুক্ত ঐ কর্মকর্তাকে নিজ কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন।
সূত্র থেকে জানাগেছে, রাজশাহীর বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাসের বিরুদ্ধে অনৈতিক পন্থায় অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। থানার নিজস্ব কক্ষে বসে সামনে দাড়িয়ে থাকা কোন এক ব্যক্তির কাছ থেকে
অর্থ গ্ৰহণের ভিডিওটি রবিবার (৭ জুন) সন্ধার পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বাগমারা এলাকাসহ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি টেবিলের সামনে দাড়িয়ে এক হাজার টাকার নোটের ছোট একটি বান্ডিল ওসি তদন্ত কমলেশ দাসের হাতে দেন। টাকা হাতে নিয়ে তিনি একটু মিসকি হাসি দিয়ে টেবিলের নিচে হাতের একাংশ নিয়ে টাকাগুলো গোনার পর বাম হাতে
প্যান্টের মানি ব্যাগ বের করে সেখানে রেখে দেন। ভিডিওটি ঘুষ লেনদেনের বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। তবে ভিডিওটির সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নিতেন তিনি। টাকা না দিলে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিনের ব্যাটারি খুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান পুকুর খনন প্রকল্প থেকে বিঘাপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের অবৈধ টাকা আদায় করতেন তিনি। এছাড়াও পুরাতন পুকুর সংস্কারের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভিডিওটি কেউ শয়তানি করে ধারণ ও প্রচার করেছে। বিষয়টি আমার স্পষ্ট মনে নেই। এটি মেসের খাবার বাবদ টাকা হতে পারে, যা ম্যানেজার দিয়ে থাকবেন।”
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাসকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
