মৌলভীবাজারের বড়লেখা আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টাকালে বিজিবির ছোড়া গুলিতে ভারতীয় এক চোরাকারবারি গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে বড়লেখা উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে আহত ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় বিয়ানীবাজার সামরিক দলের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক (লেফটেন্যান্ট কর্নেল) মো. আতাউর রহমান সুজন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বিয়ানীবাজার (৫২ বিজিবি) সামরিক দলের একটি বিশেষ সশস্ত্র টহল দল বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় নিয়মতান্ত্রিক পাহারায় নিয়োজিত ছিল। ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে, চারপাশ যখন কুয়াশা ও অন্ধকারে ঢাকা ছিল, তখন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুই জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশ করতে দেখে বিজিবি।
টহল দলের জোয়ানরা দূর থেকে তাঁদের থামার নির্দেশ দিলে ওই ভারতীয় চোরাকারবারিরা আত্মসমর্পণের পরিবর্তে উল্টো বিজিবি সদস্যদের ওপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে অতর্কিত আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন।
বিজিবির নিখুঁত নিশানায় ছুড়তে থাকা বুলেটের আঘাতে এক চোরাকারবারি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বিজিবির অনড় ও কঠোর মনোভাবের মুখে এবং বেগতিক পরিস্থিতি দেখে পাশে থাকা অন্য চোরাকারবারি আহত সঙ্গীকে টেনে-হিঁচড়ে অন্ধকার ও গহীন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরীণ এলাকায় পালিয়ে যায়।
বিয়ানীবাজার সামরিক দলের অধিনায়ক মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাঠ পর্যায়ের সকল কৌশলগত কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে বিজিবি সর্বদা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।’ এই ঘটনার পর থেকে বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সীমান্তসংলগ্ন গ্রামবাসীদের রাতে চলাচলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।