বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁর কাছে ধর্ম-বর্ণ এটা কোন ইস্যু না, তিনি সবসময় বলে এসেছেন ‘আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করব‘ যার প্রমান ইতিমধ্যে আপনারা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ^াস করে দেশের সকল জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট পরিচয় বিকাশে সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, কমিউনিটি বেজ, ট্যুরিজম এবং টেকশই পর্যটন বিকাশকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সেই অঙ্গিকারের একটি জীবন্ত প্রতিফলণ। যেখানে সংস্কৃতির সাথে সমৃদ্ধি আর সমৃদ্ধির সাথে পর্যটনের একটি মেলবন্ধন শুরু হয়েছে। এই উৎসব একটি সম্ভাবনার প্লাটফরম। এর মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও প্রসিদ্ধ ও প্রাণবন্ত হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি শুধু প্রসিদ্ধ হবে না তা পর্যটন সম্পদে রুপান্তর হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি কোম্পানীর মালিকানাধীন ফুলছড়া চা বাগান মাঠে ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল সংস্কৃতি ও বৈচিত্রময় জীবনধারা সমৃদ্ধ তিনদিন ব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর লক্ষ্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পর্যটনকে সম্পদে রুপান্তরিত করা। আমরা বিশ^াস করি হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আর্ন্তজাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও বৈচিত্রের শক্তিশালী পরিচয় গড়ে উঠবে। আধিবাসীদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও জীবনধারা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ আরও বর্ণিল। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৫২‘র ভাষা আন্দোলন এমনকি আজকের যে বাংলাদেশ এ বাংলাদেশে আধিবাসীদের অবদান গর্বের।
বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত হারমোনি ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী পর্বে মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি আরও বলেন, হারমোনি শব্দের মধ্যে এক গভীর আবেদন রয়েছে। এই শব্দের মধ্যে সমৃদ্ধি, সহাবস্থান আর একে অন্যর প্রতি হৃদয়ের যে টান সেটা আমি অনূভব করি। আগামীতে এই হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আরও বড় পরিসরে হবে এবং অনেক বেশি লোক সমাগম হবে। আমরা চাইবো আগামীতে যেন ফেস্টিভ্যাল আরও সুন্দর হয় সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো।
তিনদিনের এই উৎসবে ২৬টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, নৃত্য এবং শৈল্পিক কারুকাজ উপস্থাপন করা হচ্ছে। উৎসবে মনিপুরী, গারো, খাসিয়া, উরাও, বুনারজি, শবর, গঞ্জু, কড়া, গৌড়, ত্রিপুরা, তেলেগু, হরিদাসসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং কৃষ্টি-সংস্কৃতি প্রদর্শিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। এছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য বকশী মিছবাউর রহমান ও আহবায়ক কমিটির সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম।
তিনদিনের উৎসবের প্রথম দিনের উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এতে চোখধাঁধানো আলোর সাথে খাসিয়া ও মনিপুরী শিল্পীদের বৈচিত্রময় পোষাকে দলবদ্ধ নৃত্য পরিবেশন নজর কাড়ে দর্শকদের। আগামী ২১ জুন শেষ হবে এই বর্ণিল উৎসব যাত্রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
