চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় নদীতে ব্যাটারিচালিত ‘বৈদ্যুতিক শক’ দিয়ে রাতের আঁধারে মাছ শিকার করার সময় ১ যুবক নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফরাজিকান্দী ইউনিয়নের বালুচর গ্রামে ৷
জানা যায় প্রতিদিনের ন্যায় বালুচর গ্রামের মনির হোসেন মজুমদারের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন শনিবার রাতে নদীতে মাছ শিকার করতে যান এবং একটি বড় মাছকে ব্যাটারিচালিত ‘বৈদ্যুতিক শক’ দিলে মাছটি ভেসে উঠে এসময় মিনহাজ ঐ মাছটি ধরার জন্য নদীতে ঝাপ দিলে সেও ব্যাটারিচালিত ‘বৈদ্যুতিক শক’ এর শিকার হন ৷
পরে রোববার ২১ জুন সকালে তার স্বজনরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মিনহাজকে মৃত ঘোষনা করেন ৷
পরে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ পোস্ট মর্ডেমের জন্য লাশ চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করেছেন বলে জানাগেছে ৷ এবংএই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা বা কোন অভিযোগের খবর পাওয়া যায়নি ৷
খবর পেয়ে ফরাজিকান্দী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ওলি উল্লাহ দেওয়ান, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারাণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু ও ফরাজিকান্দী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান লালমিয়াসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিহত মিনহাজের পরিবারের খোজ- খবর নেন এবং সোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ৷
দাফনকাজে ব্যস্ত থাকায় নিহত মিনহাজের পিতার সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই ৷
এদিকে খবর পেয়ে মনির হোসেন মজুমদারের ছোট মেয়ের শশুর বাড়ীর লোকজন এসে এলাকাবাসীর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লাশ দাফন- কাফন না করেই বাড়ীতে ফিরে যান স্বজনরা ৷
স্থানীয়রা জানান, নদীতে মাছ শিকারে বাড়ছে কারেন্ট জাল, রিং জাল, চায়না চাই ব্যবহারের কারণে। এ কারণে নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। এদিকে নতুন করে যোগ হয়েছে এই বৈদ্যুতিক ‘শক মেশিন’। এটির ফলে মাছ শিকার করায় পোনা, ডিমসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মাছের জন্য হাহাকার দেখা দেবে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, আগে নদীতে জাল ফেললেই মাছ পেতাম। এখন সারাদিন বসে থেকেও মাছের দেখা পাই না। কারেন্ট জাল আর চায়না চাই দিয়ে ব্যাপক আকারে মাছ ধরে আগেই মাছের বংশ শেষ করে ফেলছে। এখন আবার যোগ হয়েছে বৈদ্যুতিক মেশিনের ব্যবহারে। এভাবে মাছ শিকার করলে মনে হয় নদীতে তারা আর কোনো মাছই রাখবে না।
অভিযোগ উঠেছে। বৈদ্যুতিক মেশিনের ব্যবহারে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। এভাবে মাছ শিকারের ফলে দিন দিন নদীতে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ জেলেরা।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, বৈদ্যুতিক মেশিনের ব্যবহার অবৈধ আমরা মাঝে মধ্যে খবর পাই যে বৈদ্যুতিক ‘শক মেশিন দিয়ে মতলব উত্তরে মাছ শিকার করা হচ্ছে তাদেরকে ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি ৷
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
