ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
সরকারি আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে দেশের চলমান রাজনীতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ড. ইউনুস এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫নং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম। সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ের সরকারি চেয়ারে বসে দেওয়া তার এমনই কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক দলকানা বক্তব্যের ভিডিও সামনে আসার পর পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কার্যালয়ে বসে এক ব্যক্তির সাথে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছেন ফখরুল ইসলাম। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এই যে মব, এই যে ঝিনাইদহ-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মহুলের বাড়ি ভাঙলো, এই মব টায় হলো আশ্চর্যের বিষয়।” বর্তমান সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এই ইউনুসের এক বছর, দেড় বছরের যে অত্যাচার আর শেখ হাসিনার যখন পতন হলো তখন যদি ভোট দিতো আওয়ামী লীগ ২০ টা সিট পেতো।”
মাঠের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “এখন ইউনূসের ১ বছর ৪ মাসের যে অত্যাচার এবং এখন টোটাল বিএনপি ধ্বংস হচ্ছে বিএনপির চাঁদাবাজির কারণে আর জনপ্রিয়তা বাড়ছে শেখ হাসিনার—এটা হলো বাস্তব কথা।”
নির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরে ফখরুল ইসলাম বলেন, “এখন আপনি ফেয়ার (ভোট) দেবেন, আওয়ামী লীগ ২০০ সিট পাবে। শেখ হাসিনার ভোটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেবেন আর মাঠটা ক্লিয়ার করে দেবেন, আর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করে দেবেন।” তিনি আরও বলেন, "শেখ হাসিনা ইদানিং তিন-চারটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সাথে যে সাক্ষাৎকার দিল, তাতে তার বিশাল একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে। প্লাস ১৬০-১৭০টা দেশ শেখ হাসিনার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে।" তিনি দাবি করেন, "ডিসেম্বরের শেষে বা মাঝামাঝি তফসিল দিতেই হবে।" হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, "ডিসেম্বর তো এসেই গেল।" এসময় প্রশাসনে চাকরি করেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা ওই আছি, তাল মিলিয়ে চলতিছি আর কি।”
ভিডিওর অন্য একটি অংশে দেখা যায়, কার্যালয়ে বসে অপর এক ব্যক্তির সাথে ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কথা বলছেন ফখরুল ইসলাম। নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই যে ইউনুস যদি পাতানো নির্বাচন দিয়ে চলে যায়, সেই পাতানো নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিশ্ব কি কায়দায় মানবে জানি নে। এবং সেই নির্বাচনে যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে কতদিন থাকবে তাও জানি নে। দুই বছর থাকুক, তিন বছর থাকুক, পাঁচ বছর থাকুক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবেই। আজ না হোক কাল, আসবেই।”
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে কী হবে, তা নিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবেই, আর ক্ষমতায় এলে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের যে ৮-২৫টি সেন্টার রয়েছে, তা সব ধ্বংস করে দেবে। এসময় অপর ব্যক্তি মন্তব্য করেন, “তাহলে তো দেশের সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো তো দেশের সম্পদ, ইউনুসেরই হোক আর যারই হোক।” জবাবে এই ভূমি কর্মকর্তা বলেন, “কিন্তু রাগের চোটে কেউ এদের ঠেকাতে পারবে না তো। শেখ হাসিনা বেঁচে থাক আর যাই থাক, এই আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে, কর্মীদের ঠেকাতে পারবে না। ওরা যে দিন (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় আসবে তার পরের দিনই গুঁড়ো গুঁড়ো (ধ্বংস) হবে।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ-আর্মিও কর্মীদের ঠেকাতে পারবে না।”
কথোপকথনের শেষ দিকে অপর ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, “ততদিন ড. ইউনুস বাঁচবে কিনা এইটাই হচ্ছে কথা।” তার এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে ফখরুল ইসলাম বলেন, “ইউনুস বাঁচার দরকার নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ইউনুসের মরণোত্তর বিচার হবে”।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বলেন, "এমন কোনো ভিডিও ফুটেজ এখনো আমার নজরে আসেনি। তবে সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে উনি কোনোভাবেই এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন না। এটি স্পষ্টত চাকরিবিধির লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওনার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর মুখে দেশের প্রধান উপদেষ্টার মরণোত্তর বিচার ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের এমন উসকানিমূলক রাজনৈতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
