জয়পুরহাটে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা চক্রের ৩ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া দুটি মোটরসাইকেল, তিনটি মোবাইল ফোন এবং লক ভাঙার ৪টি মাস্টার চাবিসহ একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম বালিঘাটা এলাকার লতীরহাট বাজার সংলগ্ন পাকা সড়ক এবং রাতে নাকুরগাছী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়ার আদমদীঘী উপজেলার উথাইল গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম (২৪), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মালধ্যা ফকিরপাড়া এলাকার মো. নাদিম (২৫) এবং একই উপজেলার নাকুরগাছী এলাকার মো. সোহেল।
জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে সোমবার সন্ধ্যায় লতীরহাট বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। গোপন সংবাদ ছিল, সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয় ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে রবিউল ও নাদিমকে আটকে সক্ষম হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি কালো রঙের ডিসকভার ১১০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরে আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পাঁচবিবি উপজেলার নাকুরগাছী এলাকায় সোহেলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তারসহ একটি লাল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ এবং মোটরসাইকেলের লক ভাঙার কাজে ব্যবহৃত ৪টি টি-আকৃতির মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চোরাই মোটরসাইকেল সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় চুরি ও চোরাই মালামাল সংরক্ষণ-সংক্রান্ত ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় চুরি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।