× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জিয়া মঞ্চের নগর সম্পাদকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমিদখলে রাখার অভিযোগ

রাজশাহী ব্যুরো

০৪ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৭ পিএম

রাজশাহী নগরীতে বৈধভাবে ক্রয় করা জমির দখল বুঝে পেতে বাধা, হয়রানি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হুমকি ধামকির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সম্পাদক আলামিনের বিরুদ্ধে।

আদালতের রায় উপেক্ষা করে জোড়পূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টায় তিনি লিপ্ত রয়েছেন অনেকদিন ধরে। জাকারিয়া আল আমিনের এমন এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা।

শনিবার (৪ জুলাই) নগরীর এএইচ টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহমখদুম থানাস্থ দুরুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীর বড়বনগ্রাম মৌজার ( শহীদ জিয়া শিশু পার্কের উত্তরে) ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নং দাগে মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ (দুই কাঠা ৫ ছটাক) জায়গায় টিনশেড বাড়ি ও দোকানসহ একটি জমি গত ৫ মার্চ ২০২৫ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন মাসুদ রানার স্ত্রী আরিফা খাতুন। যার দলিল নং ১৫৫৮/২০২৫।  এছাড়াও একইস্থানে মাসুদ রানা তিন দশমিক ৪৯ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন, যার দলিল নং ২০২৩/২০২৫। পরবর্তীতে মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী আরিফা খাতুনের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত উক্ত জমির সরকারি খাজনা পরিশোধ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দলিল ও খতিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বড়বনগ্রাম মৌজার মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ জমির মালিকানা ১৯৬০ সাল থেকে একাধিক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তর হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালে অভিযুক্ত জিয়া মঞ্চের নগর সেক্রেটারি জাকারিয়া আল-আমিন বিবদমান জমিটি মোয়াজ্জেম হোসেন ও চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করেন। পরে উত্তরাধিকার ও বিক্রয় সূত্রে ২০২৫ সালে জমিটি আরিফা খাতুনের নামে নিবন্ধিত হয় এবং নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এরপর জমির দখল বুঝে নিতে গেলে বিএনপির কথিত সহযোগী সংগঠন রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী জাকারিয়া আল আমিন জমির মালিকানা নিজের দাবি করে বৈধ ক্রেতাকে উক্ত জমি দখলে বাধা দেন এবং আদালতে মামলা রয়েছে বলে রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা।

মাসুদ রানা দাবি করেন, জমির দলিল ও খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানার ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে জাকারিয়া আল আমিন ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি নিজেই ওই জমি মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার স্ত্রী চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি মোয়াজ্জেমের স্ত্রী  চাশমে আরা বেগম ও তার ছেলে শহীদুল হক হায়দারী পান। তারা ২০২৩ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খানের কাছে বিক্রি করেন। এবং ২০২৫ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খান ওই জমি মাসুদ রানার স্ত্রী আরিফা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, জাকারিয়া আল আমিন পরবর্তীতে বিক্রিত জমির দলিলটি বাতিলের মামলা দায়ের করলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি বলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আল আমিন আদালতে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরেদ্ধে আদালতে আপিল করেও সফল হননি। মহামান্য আদালত বিবাদি মোয়াজ্জেমের পক্ষে রায় দেন।যার মোকাদ্দমা নং ও/সি: ১৩৯/১৩। 

বিক্রয় কবলা  দলিলে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভুয়া বা জাল বলে আল আমিন দাবি তোলেন। কিন্তু আল আমিনের তোলা অভিযোগও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি, যার আঙ্গুলাংক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট মামলা নং-FP.02.002.2026 ( মামলা নং- এফপি. ০২.০০২.২০২৬)। আদালতে উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট আল আমিনের নিজের বলে প্রতীয়মান হয় এবং আদালত বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেন বলে দাবি করেন মাসুদ রানা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের একাধিক রায়, সরকারি রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র থাকার পরও জাকারিয়া আল আমিন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা চরম হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আরো বলেন, আল আমিন তৎকালীন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাহমখদুম থানার সেক্রেটারি ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহাদত আলী শাহুর সাথে সখ্যতা তৈরি করে শাহুর কুপরামর্শে জায়গাটি আল আমিন নিজ দখলে নেন।

উত্থাপিত জমি দখলের অভিযোগে জানতে চাইলে, জাকারিয়া আল আমিন বলেন, আমি মাসুদ রানার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। তারা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, জমির দলিল বাতিলের জন্য আমি মামলা করেছিলাম। জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.