কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চড় রাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ও ছত্রাকধরা (ফাঙ্গাসযুক্ত) পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে ৯৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য গত দুই দিন ধরে যে পাউরুটি সরবরাহ করা হয়েছে, তার একটি অংশে পচন ও ফাঙ্গাস দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
তিনি বলেন, "শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিম্নমানের বা পচা খাবার কোনোভাবেই বিতরণ করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির জুয়েল এর সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে জানান যেখানে রুটির অর্ডার দেয়া হয়েছে মেশিনটা নতুন তাই এই ত্রুটি হয়েছে । সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোহাম্মদ নওশাদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি বরাবরই বলে দিয়েছি এ ধরনের খাবার দেয়া যাবে না, এতে বাচ্চারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।