নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে নাবিলা হাসপাতাল এবং নাবিলা জেনারেল হাসপাতালকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে প্রতিষ্ঠান দুটির সব ধরনের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১১:৩০ ঘটিকা থেকে বেলা ০১:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত চৌমুহনী কলেজ রোড এলাকায় জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে হাসপাতাল দুটিকে ৩টি মামলায় সর্বমোট ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নাবিলা জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং লেবার রুম না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে 'মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরী (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২' এর ১৩ ধারায় ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এবং লেবার রুম না থাকায় একই আইনে আরও ৫ ( পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।এছাড়া হাসপাতাল সংলগ্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ এনেস্থিসিয়া ঔষধ রাখার দায়ে 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯' এর ৫২ ধারায় ৫০ ( পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হলিকেয়ার হাসপাতালকে অনিয়মের
অভিযোগে ৫( পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযানে উদঘাটিত সব ধরনের ত্রুটি সংশোধন, শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র হালনাগাদ না করা পর্যন্ত উভয় হাসপাতালের কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। এই অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, "জনস্বার্থে এবং চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিতে আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক যদি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে কিংবা রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জনস্বার্থে পরিচালিত যৌথ এই অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।