× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মনুনদীর বাঁধ ভেঙে ৫ ইউনিয়নের ৩৫ হাজার মানুষের মানবেতর জীবন

মো: আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

উজানের ঢল আর টানা তিনদিনের অব্যাহত বৃষ্টির কারণে গত বৃহস্পতিবারে আকষ্মিকভাবে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর নামক স্থানে মনুনদীর বাঁধ ভেঙে মুহুর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হতে থাকে। বিশেষ করে ওই ইউনিয়নের একামধু, গণেশপুর, খান্দিরকুল, আকুয়া, করতল,সালন সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বাঁধ ভাঙার শুরুতেই পানিতে তলিয়ে যায়। আকষ্মিক মুহুর্তে কিছু বুঝে উঠার আগেই শতশত ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে বানের পানি। আটকা পড়েন হাজার হাজার নারী-পুরুষ শিশু ও গবাদি পশু। ঘরে রাখা জিনিসপত্র ও ধান-চাল রেখেই প্রাণ বাঁচাতে অনেকে আশ্রয় নেন ওয়াপদা বাঁধের উপর। কেউবা আশ্রয় নেন প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্রে, তবে সেখানেও হাটু পানি থাকায় দুর্ভোগে পড়েন আশ্রয় নেয়া লোকজন। আবার অনেকে আশপাশের গ্রামের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে সেখানেও বাঁধে বিপত্তি। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও প্রবেশ করা শুরু করে বানের পানি। 


এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে মনুনদীর বাঁধের পানির চাপ সহ্য না করতে পেরে উজিরপুর থেকে আধা কিলোমিটার দূরের তারাপাশার সাথে যুক্ত হওয়া ওয়াপদা বাঁধটির আকুয়া গ্রামের অংশও ভেঙে যায়। এতে বাঁধটি ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল। বাঁধ ভেঙে পানির উত্তাল স্রোতে একের পর এক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করে।    

শনিবার (১১ জুলাই) টেংরা ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ বন্যার চরম অবনতি হওয়ায় রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক,মনসুরনগর সহ মোট ৫টি ইউনিয়নের ৩০ থেকে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে ৫টি ইউনিয়নের ২৫ থেকে ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে আর পানিবন্দী হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ। 

এদিকে বানের পানির স্রোতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামের পর গ্রামের পাকা সড়কের অনেক জায়গা পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়কে যানচলাচলও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অনেক জায়গায় কৃষকের সদ্য রূপণ করা ধানের বিজতলাও তলিয়ে গেছে বানের স্রোতে। শুকনো খাবারের অভাবও অনেক জায়গায় প্রকট। কেউ পাচ্ছেন আবার কেউ পাচ্ছেন না। 


টেংরা ইউনিয়নের একামধু গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক আক্ষেপ করে বলেন, আসলে আমাদের এলাকাটা অবহেলিত। উজিরপুর এলাকার ভাঙা বাঁধের উপর যদি ভালভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করত তাহলে অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষ বন্যার হাত থেকে বাঁচতে পারত,আমরা পানিবন্দী হতাম না। আমার ঘরে সাতার পানি। বিছানা ছিল, আসবাপত্র সব তলিয়ে গেছে। শুধু আমি না আমার গ্রামের অন্তত ৫শ পরিবার আছে যারা এখনো খেতে পারেনি।   

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালীদ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে  জানান, মনুনদীর চাঁদনীঘাট ব্রিজ এলাকায় বর্তমানে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ধলাই নদীতে বিপদসীমার ২১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মনুনদী ও ধলাই নদীর দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, এই মুহুর্তে আমাদের কিছু করার নাই,পানি কমলেই আমরা বাঁধের ভাঙা অংশে কাজ শুরু করব। তবে ইতিমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। 


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় ইতিমধ্যে রাজনগর উপজেলায় ২০ মেট্রিকটন চাল, কমলগঞ্জ উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব চাল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও শুকনো খাবার হিসেবে ৫টি উপজেলায়  ১ হাজার ৭শত ৫০ ব্যাগ খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা যায়। 

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, নতুন করে আরও বেশ কিছু গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় আপাদত ২০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ আছে এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। নগদ অর্থ বরাদ্ধ হয়েছে দেড়লক্ষ টাকা।  

ওদিকে বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতরা ও দলীয় জনপ্রতিনিধিরাও বন্যা দুর্গত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান টেংরা ইউনিয়নের বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা ও ত্রান তৎপরতা জোরদার করা হবে এবং শনিবার থেকে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হবে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.