× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাস্তা নির্মাণে অবৈধভাবে খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তলন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

০৮ মে ২০২২, ০০:০৩ এএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিন ইউনিয়নের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে  কাশিয়ানীর দেবাসুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়ন পর্যন্ত পাচঁ কোটি একাশি লাখ টাকা ব্যায়ে একটি পাকা রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর  এলজিইডি ।এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকদের জমি থেকে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে  মাটি উত্তলন করেছে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ টি পাওয়া  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। 

প্রভাবশালী ঠিকাদাররা  যখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছত্রছায়ায়  অবৈধ কাজে জড়িত থাকেন, তখন তাঁদের প্রতিহত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।কাশিয়ানি উপজেলার প্রায় পাচঁ কিলোমিটার এই কাজের মধ্যে  ঘোনাপাড়া থেকে বিদ্যাধর পর্যন্ত রাস্তার এক কিলোমিটারেরও বেশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল ও স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি  উত্তোলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার  করার কাজটি সে কারণেই ঘটতে পারছে।

রাস্তাটির মাটির কাজের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তার সাথে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল ও স্থানীয় কৃষকদের আবাদী জমি  থেকে মাটি খনন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করেছে । এ  নিয়ে  ক্ষোভে ফুলে ফেফে  ওঠে এলাকাবাসী ।খাল এবং ফসলি জমি রক্ষা করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে জোরপূরবক খাল এবং আবাদি জমি থেকে মাটি উত্তলন  বন্ধ করায় এলাকাবাসী।  স্থানীয়দের বাধার মুখে খাল ও আবাদী জমির মাটি খনন বন্ধ করলেও।ইতিমধ্যে এক কিলোমিটারের বেশি আবাদি জমি ও খাল খনন করা হয়েছে। এই এক কিলোমিটারেরও বেশি খাল খনন করে রাস্তায় মাটি দেওয়ার কারনে ভবিষ্যতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মানাধীন এই রাস্তাটি ভেঙ্গে আবার খালে চলে যাওয়ার  আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  কাশিয়ানী উপজেলার বেথুড়ী , পুইসুর এবং সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাবস্থা সহজ ও দুর্ভোগ লাঘবে  কাশিয়ানীর দেবাসুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়ন পর্যন্ত পাচঁ কোটি একাশি লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় পাচঁ কিলোমিটারের একটি পাকা রাস্তার নির্মাণ  কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর   এলজিইডি ।। প্রায় পাচঁ কিলোমিটার এই কাজের মধ্যে  ঘোনাপাড়া থেকে বিদ্যাধর পর্যন্ত রাস্তার এক কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তার সাথে পানিউন্নয়ন বোর্ডের খাল ও স্থানীয় কৃষকদের  আবাদি জমি ।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি না নিয়ে খাল থেকেই মাটি উত্তলন করে রাস্তার সোল্ডার তৈরি করতে মাটি ফেলেছে প্রভাবশালী  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এলাকাবাসীর আবাদী জমি থেকে তাদের সাথে কোনো কথা না বলে মাটি খনন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করছে। আবাদি জমি থেকে মাটি উত্তলন  করায় ক্ষুব্ধ হয় এলাকাবাসী । পরে তারা এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে  মাটি খনন বন্ধ করে দেয় ।

রাস্তাটির মাটির কাজের জন্য আলাদা টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা বেচে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। অন্য দিকে রাস্তাটি খালের সাথে হওয়ায় খালের মাটি খনন করায় রাস্তাটি ভেঙ্গে খালে চলে গেলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাধীন রাস্তাটি আবারো ক্ষতিগ্রস্থ হবে এতে সরকারের কোটি টাকার ও বেশি   লোকসান হবে মনে করছেন সচেতনমহল ।

এলাকাবাসী ও কয়েকজন জমির মালিকের সাথে কথা বললে তারা বলেন,  আবাদি জমি থেকে মাটি উত্তলন করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করায় অনেক ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এবং পাশে অবস্থিত ফসলী জমি হুমকির মুখে রয়েছে।   মাটি ভরাটের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারী খাল ও তাদের  জমি থেকে থেকে মাটি তুলে নিয়ে এক কিলোমিটারেরও বেশি মাটির জন্য বরাদ্দ  টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । অন্যদিকে খাল থেকে মাটি খনন করায় নির্মাধীন এই রাস্তাটি ভেঙ্গে আবারো খালের চলে যাওয়ার  আশঙ্কা করছি । এতে কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়বে সরকার।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হেলাল আহাম্মেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সবার অনুমতি নিয়ে মাটি কাটা হয়েছে এমন দাবী করে তিনি বলেন  তাদের কাজ দেখে সন্তষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম,  পানি উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে সরকারী খাল থেকে মাটি উত্তলন করা অপরাধের সামিল এ বিষয়ে এলজিইডিকে নোটিশ দেওয়া হবে। 

এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক জানান,  মাটির কাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্টানকে আদালা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এলাকাবাসীর অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাবেন এলজিইডি । অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেবার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা ।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.