পরিবেশবান্ধব কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে সম্প্রতি ‘ইকোফিল’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে এনার্জিপ্যাক ফ্যাশনস লিমিটেড। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) বোতলের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীলভাবে সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে টেকসই চর্চা আরও জোরদার করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এটি প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন (ইএসজি)–সংক্রান্ত অঙ্গীকারেরই অংশ।
‘ইকোফিল’-এর আওতায় এনার্জিপ্যাক ফ্যাশনসের অফিস ও কারখানায় কর্মী, দর্শনার্থী, ব্যবসায়িক এবং অন্যান্য অংশীদারদের জন্য একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) বোতলের পরিবর্তে পুনঃব্যবহারযোগ্য কাচের বোতল চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে পানির রিফিল স্টেশন। ফলে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বোতলে বাজারজাত করা পানির পরিবর্তে কর্মীরা একই বোতলে প্রয়োজনমতো বারবার বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রতিটি রিফিল স্টেশনে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি পরিশোধনের পাশাপাশি প্রতিবার ব্যবহারের আগে বোতল জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। ‘রিফিল। রিইউজ। রেসপেক্ট।’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্য দিয়েই টেকসই জীবনধারা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
পরিবেশ সংরক্ষণে এনার্জিপ্যাকের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ ‘ইকোফিল’। এর আগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল রিসাইকেল করে গাছের টব তৈরির উদ্যোগও নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ এ উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি এনার্জিপ্যাকের বৃহত্তর পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন (ইএসজি) কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উদ্যোগটি সম্পর্কে এনার্জিপ্যাকের ফ্যাশনস এর চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ বলেন, “টেকসই উন্নয়ন কেবল অঙ্গীকার করার মাধ্যমে নয়, বরং ধারাবাহিক বাস্তব পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। ‘ইকোফিল’ আমাদের ইএসজি যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি টেকসই চর্চাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিচ্ছি।”