ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের কমলপুর থেকে কৈজুরী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলপুর-কৈজুরী সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের একাধিক স্থানে মাটি ধসে গিয়ে রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পুরো রাস্তা কাদায় ঢেকে গেছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। অনেক মোটরসাইকেল ও ভ্যান কাদায় আটকে যাচ্ছে এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, এটি কৈজুরী গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ সড়ক। সড়কটির উভয় প্রান্তে পাকা রাস্তা থাকলেও মাঝখানের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁচা ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এমনকি কয়েক দফা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। কিন্তু বাস্তব উন্নয়ন হয়নি।
কৈজুরী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মো. দলিল উদ্দিন বলেন, “বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই শুনছি। কিন্তু রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই আমরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।”
ভ্যানচালক মো. জহির আলী বলেন, “বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালানো প্রায় অসম্ভব। অনেক সময় যাত্রী নিয়ে মাঝপথে আটকে যেতে হয়। এতে সময়ও নষ্ট হয়, আয়ও কমে যায়।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. মিলন জানায়, “বৃষ্টির দিনে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাদা-পানি পেরিয়ে যেতে গিয়ে জামা-কাপড় নষ্ট হয়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ারও ভয় থাকে।”
কৈজুরী গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুদ রানা বলেন, “এই সড়কের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে না পারায় রোগী পরিবহনে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়। অনেক সময় রোগীকে খাটিয়া বা বিকল্প উপায়ে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে অনেক আত্মীয়-স্বজনও আমাদের এলাকায় আসতে চান না। এমনকি বিয়ের সম্পর্ক করতেও অনেকে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাই দ্রুত সড়কটি মেরামত এবং স্থায়ীভাবে পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এই সড়কটির বিকল্প নেই। অথচ বছরের পর বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “সড়কটির বিষয়ে জানার পর দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়কটি নতুন করে পাকা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা নির্মাণ করা হবে। তাহলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং কমলপুর-কৈজুরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
