ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের পাশাপাশি প্রতিবেশী তাড়াইল, কেন্দুয়া ও খালিয়াজুড়ি উপজেলার একাংশের জন্য এটিই মূল চিকিৎসাস্থল। তবে নানা সমস্যা, লোকবল সংকট এবং প্রশাসনিক চরম অব্যবস্থাপনায় ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি বর্তমানে নিজে থেকেই ধুঁকছে। সরকারি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় আসা সাধারণ রোগীদের দিনশেষে ফিরতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও হতাশা নিয়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই এলাকার এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর থাকাকালীন সময়ে হাসপাতালের উন্নত চিকিৎসা আমরা পেয়ে এসেছি কিন্তু বিগত সরকারের আমলে আমরা কোন প্রকার ভালো চিকিৎসা পাইনি ও হাসপাতালের কোন উন্নয়ন হয়নি যা হয়েছে এমপি বাবর সাহেবের আমলই হয়েছে আমরা এখনো আশা করছি উনি আমাদের পাশে থেকে হাসপাতালে উন্নয়ন সহ চিকিৎসা সেবায় আধুনিকতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবেন সাধারণ রোগীর আরো আশা করেন এমপি বাবর অবশ্যই এই হাসপাতালকে উন্নয়ন করবেন ও চিকিৎসা সেবাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবেন উনি যদি পদক্ষেপ নেন তাহলে কোন রোগী বিনা চিকিৎসায় এই হাসপাতাল থেকে ফিরে যাবে না ।
হাসপাতালটিতে মঞ্জুরীকৃত পদ অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (যেমন: গাইনি, অ্যানাস্থেসিয়া, সার্জারি, শিশুরোগ) সংকট দীর্ঘদিনের। ফলে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বা জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি পালনে অনিয়ম এবং সময়ে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রতিনিয়ত পাওয়া যায়
ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক মূল্যবান সরকারি যন্ত্রপাতি হয় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, নয়তো দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই অসচ্ছল রোগীদের চড়া দামে বাইরের ক্লিনিক বা প্যাথলজি সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল চত্বরে নিয়মিত দালাল ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে এবং নানা অজুহাতে বাইরের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই চক্রের সাথে হাসপাতালের নিম্নপদস্থ কিছু কর্মচারীর অশুভ আঁতাত রয়েছে বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ।
সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও রোগীরা অধিকাংশ ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের স্টোরে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও রোগীদের বাধ্য করা হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে দামি ওষুধ কিনতে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। অনেক শৌচাগার ব্যবহারের একদম অনুপযোগী। অপরিচ্ছন্নতার কারণে ওয়ার্ডে অবস্থানরত রোগীরা নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া খাবার ও সুপেয় পানির সংকটও তীব্র
জরুরি রোগীদের স্থানান্তরের জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির সেবা সহজে মেলে না। চালকের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং জ্বালানির অজুহাত দেখিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই অচলাবস্থা দূর করা জরুরি। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি—উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
