হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রথমবারের মতো সাপে কাটা রোগীর সফল চিকিৎসায় সুস্থ হলেন মো. রাহাত উদ্দিন নামের এক শিশু। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন মো. রাহাত উদ্দিন (৮ ) নামের ওই শিশু। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) বারবার অচেতন হয়ে পড়ার উপসর্গ নিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সন্ধ্যা হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
সাপেকাটা রোগী,মো. রাহাত উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মো. ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা.মানসী রানী সরকার জানান,শুরুতে রোগীর পরিবার বুঝতেই পারেননি তাকে সাপে কেটেছে।রাতের দিকে জরুরি বিভাগে আনা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার রবিয়ল ইসলাম রোগীকে দ্রুত ভর্তি করেন। এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডা.শেখ মোঃ মাহমুদুর রহমান সাথে যোগাযোগ করে রোগীর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে সাপে কাটা নিশ্চিত হন এবং তার শরীর পরিক্ষা করে এবং দ্রুত রক্ত টেস্ট করে দেখেন বিষধর সাপ তাকে কেটেছে। অত্র হাসপাতালের সাপে কাটা প্রতিষোধক ইনজেকশন দেয়া হয়।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.শেখ মো. মাহমুদুর রহমান বলেন,হাতিয়া হাসপাতালে এই প্রথমবারের মতো বিষাক্ত সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা করা হলো। যদিও রোগী বর্তমানে বিপদমুক্ত, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালীতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা শুরু করতে গিয়ে রোগীর স্বজনরা বাধা দেন। সিপিআর ও ইন্টিউবেশন দিতে তারা শুরুতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়লে তাদের রাজি করানো সম্ভব হয়। চিকিৎসা সফল হওয়ার পর তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সফলতা হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলে জানান আবাসিক মেডিকেল অফিসার।