× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ক্ষমতার দাপটে ইউপি ভবনে চেয়ারম্যানের নামফলক অক্ষত থাকলেও, ১৬ বছর গ্লাসে ঢাকা ছিলো সংসদ সদস্য‘র নাম!

মো: আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার:

২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৪ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধিন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বছরই তৎকালীন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান ভবনটি উদ্বোধন করেন। সে সময় মার্বেল পাথরে ভবনে লাগানো হয় নাসের রহমান এর নাম সম্বলিত উদ্বোধনী নামফলক। বিএনপি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পর অর্থাৎ ২০০৬ সালের পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর সেখানে নাসের রহমানের নামফলকটি ছিলো পুরোটাই অক্ষত। ২০১৬ সালের ৫ জুন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নাসের রহমান এর উদ্বোধনী নামফলকটি হটাৎই অদৃশ্য কারণে আড়াল হয়ে যায়। গ্লাস দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়া হয় নামফলকটি। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এমনভাবে ফ্রেমিং করে নামফলকটি বিশাল গ্লাসে ঢেকে দেয়া হয়, যেখানে কোন চিহ্ন রাখা হয়নি।

প্রয়াত গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। এর পরের বছর ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রয়াত গোলাম মোস্তফার ছেলে ও জেলা যুবলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোশাররফ টিটু চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হন। বিজয়ী হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে কোন ভুমিকা না থাকলেও শুধুমাত্র ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে শুধুমাত্র রং ও ডেকোরেশন করিয়ে গøাসে ঢাকা সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এর নামফলকটির পাশেই বসিয়ে দেন নিজের নামফলক। নাসের রহমান এর উদ্বোধনী নামফলকটির প্রতি পিতা-পুত্রের এমন অচরণের নিন্দা কিংবা প্রতিবাদের কোন সাহস সেসময় কেউ না করলেও দীর্ঘদিন পর বিএনপির নেতাকর্মীদের নজর পরেছে বিষয়টির প্রতি।  

সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ২৬ জুলাই দুপুরে ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এর উদ্বোধন করা মূল উদ্বোধনের নামফলক খুঁজে বের করেন ওই ইউনিনের কদুপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা সৈয়দ ময়নুল ইসলাম সহ কয়েকজন নেতাকর্মী। খুঁজে বের করা মার্বেল পাথরের নামফলকটিতে লিখা রয়েছে নাসের রহমান এর নাম। নেতাকর্মীরা নাসের রহমান এর নাম সম্বলিত নামফলকটি খুঁজে বের করার পর পাশে গোলাম মোশাররফ টিটুর নামফলকটি ভেঙে ফেলা হয়। নাসের রহমান এর নামফলক ঢেকে রাখা আর নিজের নামফলকটি অক্ষত রাখার এ ঘটনার ভিডিও গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হলে জেলা জুড়ে নিন্দার ঝর উঠে।  

জানা যায়, আগে থেকে ঢেকে রাখা নামফলকটি ২০২২ সালের ২৩ মে আবারও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোশাররফ টিটু মূল নামফলকটি একটি মিরর ফ্রেইম দিয়ে ঢেকে নিজের নাম সম্বলিত একটি উদ্বোধনের নামফলক বাম পাশে লাগান। তাঁর এই হীন প্রচেষ্টাকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিএনপি নেতা সৈয়দ ময়নুল ইসলাম বলেন, আমরা জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু এই নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার পরেও আমাদের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এই ভবন উদ্বোধন করেছেন, এখানে তাঁর নামফলক ছিলো, এই নামফলকটি আজ ১৫ বছর যাবত ঢাকা ছিলো। আমরা জানতে চাই যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তারা কী এটা দেখেননি? গোলাম মোশাররফ টিটুর নামফলকটি দেখিয়ে তিনি বলেন, এই নামফলকটি এখানে কেন?, তিনি তো এটা উদ্বোধন করেননি। এর পর গøাস দিয়ে ঢেকে রাখা নামমফলকটি সাবল দিয়ে ভেঙে উন্মোচন করা হয় নাসের রহমান নাম সম্বলিত নামফলকটি । সাথে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভাবে লাগানো গোলাম মোশাররফ টিটুর নাম সম্বলিত নামফলকটি খুলে ফেলা হয়।    

এ দিকে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এর উদ্বোধনী নামফলক গøাসের ফ্রেম দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়টি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে জামিনে থাকা যুবলীগ নেতা ও চেয়ারম্যান গোলাম মোশাররফ টিটু তড়িগড়ি করে ফেসবুকে এসে ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান জানান দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে ভিডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শুনা যায়, আমি যখন ২০২১ সালে নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাই, তখন বর্তমান সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এর একটি নামফলক ছিলো,এটা তো আমি দেখিনি। আমার পরিষদের যারা সদস্য ছিলেন তারা স্বাক্ষী আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি গøাস আছে, যার পিছনে নাসের রহমান এর নাম আছে, সেটা আমার জানার কথাও না। এটা সম্ভবত আরও ১০ বছর আগে এই গøাসটা প্রতিস্থাপন করা হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি তো চেয়ারম্যান, সেখানে আমার নামফলকটি সন্ত্রাসী কায়দায় ভেঙে ফেলা হয়।

১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো: রানু মিয়া বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান জনসভার মাধ্যমে ভবনটি ২০০৬ সালে উদ্বোধন করেন, এটি সম্পুর্ণ নাসের রহমান এর অবদান। এর পর দীর্ঘকাল ২০১৬ সাল পর্যন্তই নামফলকটি ছিলো,আমিও সেসময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলাম। এর পর গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান হলে পরবর্তীতে বড় গøাস দিয়ে নামফলকটি ঢেকে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ২০২১ সালে গোলাম মোস্তফা এর ছেলে গোলাম মোশাররফ টিটুৃ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ভবনটির রং, ডেকোরেশন সহ কিছু সংস্কার কাজ করে নাসের রহমান এর ঢেকে রাখা নামফলকের পাশেই জুড়িয়ে দেন নিজের নামফলক। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত নেতাকর্মীদের মধ্যে কথাবার্তা চলে আসছিল।  

নামফলক ঢেকে রাখা ও নিজের নামফলক স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোশাররফ টিটু নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, আমি চেয়ারম্যান হয়েছি ২০২১ সালে, নামফলক ঢাকা ছিলো এটা আমার জানা ছিলোনা। আমার নামফলক ২০২২ সালে লাগানো হয়েছে। এটা লাগানো হয়েছে উদ্বোধনের কারণে নয়, সংস্কারের কারণে। এসময় তিনি সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এর নামফলক ঢেকে রাখার দায় অস্বীকার করে সেসময়ের বিএনপিপন্থী ইউপি সদম্যদের উপর এর দায় চাপান।  


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.