× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গুরুদাসপুরে পাট ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষকেরা, সোনালি আঁশের গন্ধে মুখর বিলাঞ্চল

মো. সোহাগ আরেফিন, গুরুদাসপুর (নাটোর)

৩০ জুলাই ২০২৬, ২১:২৬ পিএম

বর্ষার পানিতে টইটম্বুর খাল-বিল। চারদিকে সবুজের সমারোহ, বাতাসে কাদামাটির সোঁদা গন্ধ। সেই প্রকৃতির বুকজুড়ে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সোনালি আঁশের সুবাস। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে এখন চলছে পাট ধোয়ার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হওয়া কাজ চলে সূর্য ডোবা পর্যন্ত। কোমরসমান পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কৃষকেরা ধুয়ে নিচ্ছেন পাট, আলাদা করছেন সোনালি আঁশ। তাদের ঘাম, শ্রম আর স্বপ্নে যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগে জাগ দেওয়া পাট একে একে তোলা হচ্ছে পানি থেকে। এরপর খাল-বিলের স্বচ্ছ পানিতে ধুয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। কোথাও পরিবারের সবাই মিলে, কোথাও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় চলছে এ কাজ। পানির ঢেউ, আঁশ ছাড়ানোর ছন্দ আর কৃষকদের হাসি-আনন্দ মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গ্রামবাংলার এক চিরচেনা অথচ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

উদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোঃ শাজাহান বলেন, “এবার ফলন আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। তবে পাট ধোয়ার কাজ অনেক কষ্টের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখন শুধু আশা, বাজারে যেন ন্যায্য দাম পাই।”

চরকাদাহ গ্রামের কৃষক মো. জাফর বলেন, “পাটের ভালো আঁশ পেতে সময়মতো জাগ দেওয়া ও ধোয়া খুবই জরুরি। আবহাওয়া ভালো থাকায় কাজ দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে, এতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুরে চলতি মৌসুমে ৩৮০০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। এখন কৃষকের সব প্রত্যাশা ভালো বাজারদরকে ঘিরেই।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের ভাষ্য, পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা বাড়লেও বাজারদরের অস্থিরতায় তারা শঙ্কায় থাকেন। বর্তমানে একজন দিনমজুরের মজুরি প্রায় ১ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ থেকে বাজারজাত পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় গড়ে ১০ মণ পাট পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লাভ পান না কৃষকেরা। তাই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার এই সময়টায় কৃষকেরা নতুন পাট ধুয়ে বাজারে আনতে শুরু করেছেন। ভালোভাবে ধোয়া ও শুকানো পাটের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। এবার আঁশের মানও ভালো দেখা যাচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাজারেও ভালো মানের পাটের সরবরাহ বাড়বে।”

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মোঃ হযরত বলেন, “একসময় বর্ষা এলেই খাল-বিলজুড়ে শুধু পাট ধোয়ার দৃশ্য দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য কিছুটা কমলেও গুরুদাসপুরের বিলাঞ্চলে এখনো সেই ঐতিহ্য টিকে আছে। এই দৃশ্য আমাদের শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।”

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে.এম রাফিউল ইসলাম বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। উন্নতমানের আঁশ পেতে সঠিক সময় জাগ দেওয়া এবং পরিষ্কার পানিতে ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আঁশের মানও উন্নত হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বাড়ছে। সে কারণে মানসম্মত পাট উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.