বাগেরহাটের চুলকাঠি বাজারে সততা এন্টারপ্রাইজের শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০)-এর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। প্রতিষ্ঠানের দাবি, ছাদ থেকে পড়ে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের আলামত ও মরদেহের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে প্রতিষ্ঠানের তিনতলা ভবনের পেছনের ড্রেন থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ফকিরহাট উপজেলার চাকুলি গ্রামের মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাত এবং একটি পা ভাঙা ছিল। ভবনের পাশ দিয়ে থাকা বৈদ্যুতিক কেবল অক্ষত রয়েছে। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের আগের অবস্থানও স্বাভাবিকভাবে ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তাদের দাবি। তাই তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সহকর্মী অখিল জানান, দুপুরের খাবারের পর কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে জাহাঙ্গীরও বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিকেলে টিন ডেলিভারির সময় তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে ভবনের পেছনের ড্রেনে তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুশান্ত দাস বলেন, জাহাঙ্গীর প্রায় ১৫ বছর ধরে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি ধারণা করছেন, কোনোভাবে ছাদ থেকে পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
মরদেহের পাশে থাকা নিহতের মা ও স্ত্রী বলেন, পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। মৃত্যুর ঘটনায় তাদের কোনো সন্দেহ নেই এবং তারা কাউকে দোষারোপ করছেন না। তবে ঘটনার পরপরই পরিবারের এমন বক্তব্য নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
চুলকাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর ঘুম থেকে উঠে ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।