জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ওএমএস কর্মসূচির আটা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘সবাই মিলেমিশে খাই’ মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা। সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন-কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
খাদ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলায় ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রি) কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকার বিনিময়ে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কিনতে পারেন। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কেন্দ্রে প্রতিদিন দুই টন বা ৪০ বস্তা আটা বিক্রির কথা থাকলেও রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। বাকি ২০ বস্তা আটা বেশি দামে খোলাবাজারে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করা হতো। ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চাল পেলেও আটা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হতো শত শত নিম্ন আয়ের মানুষকে।
ভুক্তভোগী সাবেরা বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে বলা হতো আটা শেষ, কিন্তু চাল পাওয়া যেত। পরে জানতে পারি, বরাদ্দ অনুযায়ী আটা বিক্রিই করা হচ্ছিল না। গরিব মানুষের হক এভাবে লুটপাট হবে, এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।
জানা যায়, সাধারণ মানুষকে আটা কম দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ। এ সময় তিনি অবলীলায় বলে বসেন, ‘সবাই মিলেমিশে খাই’। তার এই মন্তব্যের ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, শুরু হয় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা। বিষয়টি নজরে আসার পরই কঠোর পদক্ষেপ নেয় খাদ্য বিভাগ।
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন আহমেদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পরই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।