গত ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতার সময় অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে বের করে মারধরের শিকার এক শিক্ষার্থীর বাবা গতকাল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ নয়জনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর একটি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর বাবা মো. আসাদুজ্জামান মতিহার আমলি আদালতে আবেদনটি করেন। এতে নয়জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মাহমুদুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন—নাজমুস সাকিব, মেহেদী সঞ্জীব, ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ।
দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে আবেদনটি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ছুরি, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা মাহমুদুলকে ধাওয়া করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ও বাইরে তাঁকে ঘিরে ফেলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। এ ছাড়া সালমান সাব্বিরও তাঁর মাথায় আঘাত করেন, এতে মাহমুদুলের বাম চোখে আঘাত লাগে। অন্য আসামিরা তাঁর বুক, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, চার আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে তাঁর বুক ও গলা চেপে ধরেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে বের করে আবারও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মাহমুদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে হামলার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি তাঁর ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। গত ২৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। সেখানে রাকসু নেতারা আনাস নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন।
পরে আনাস ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাকসু কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং এই সংবাদমাধ্যমের পর্যালোচনা করা ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, পরে রাকসু নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে প্রবেশ করে তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষকরা মাহমুদুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়।
মামলার আইনজীবী হযরত আলী বলেন, “আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি। বরং বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) পাঠিয়েছেন। মাহিনের বাবা আবেগের বশে মামলাটি করেছেন। অন্য একটি মামলায় মাহিন বর্তমানে কারাগারে আছেন।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
