× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কায়াকিং: জলপথে রোমাঞ্চ আর শরীরচর্চা

সৈয়দ আবুল হাসনাত জিসান।

০১ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২০ পিএম

জলের ওপর ভেসে থাকার অনুভূতি মানুষের কাছে সব সময়ই এক অন্যরকম আকর্ষণের। নদী, হ্রদ কিংবা শান্ত লেকের বুকে ছোট্ট একটি কায়াকে বসে দুই মাথাওয়ালা বৈঠার ছন্দে এগিয়ে চলা যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক নীরব আলাপ। এ অভিজ্ঞতার নাম কায়াকিং। একসময় যে কার্যক্রম ছিল বেঁচে থাকার প্রয়োজন, আজ সেটিই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ও প্রকৃতিনির্ভর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে কায়াকিংয়ের ইতিহাস অন্তত চার হাজার বছর পুরোনো। উত্তর মেরু সংলগ্ন আর্কটিক অঞ্চলের ইনুইট সহ কয়েকটি জনগোষ্ঠী তীব্র শীত, বরফাচ্ছন্ন জলরাশি এবং কঠিন পরিবেশে চলাচল ও শিকারের জন্য বিশেষ ধরনের সরু জলযান তৈরি করেছিল। সেই জলযানের নাম কায়াক। ভেসে থাকা কাঠ, তিমির হাড় কিংবা ভাসমান কাঠামোর ওপর সিলসহ বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া টানটান করে বসিয়ে তৈরি করা হতো এটি। ছোট, হালকা ও দ্রুতগতির হওয়ায় বরফঢাকা পানিতেও সহজে চলাচল করা যেত। মাছ ধরা, সিল শিকার এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রধান বাহন ছিল এই কায়াক।

শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে প্রয়োজনের সেই জলযান ধীরে ধীরে বিনোদন ও খেলাধুলার জগতে প্রবেশ করে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ইউরোপে কায়াকিং অবকাশযাপন ও অভিযানের অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। পরে বিভিন্ন দেশে কায়াক ক্লাব গড়ে ওঠে, আয়োজন হয় প্রতিযোগিতার। 

আধুনিক কায়াক আগের মতো প্রাণীর চামড়া দিয়ে তৈরি হয় না। এখন প্লাস্টিক, ফাইবারগ্লাস, কার্বন ফাইবার কিংবা কম্পোজিট উপাদানে তৈরি কায়াক অনেক বেশি হালকা, টেকসই ও নিরাপদ। নদী, লেক, সমুদ্র কিংবা পাহাড়ি জলাধার বিভিন্ন পরিবেশের জন্য ভিন্ন ধরনের কায়াকও তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে কায়াকিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, লেক ও জলাধারে কায়াকিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের কাছে এটি প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার এবং ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য মুক্তির এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

কায়াকিং শুধু রোমাঞ্চ নয়, এটি একটি কার্যকর শরীরচর্চাও। বৈঠা চালানোর সময় হাত, কাঁধ, পিঠ ও কোমরের পেশিগুলো সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে ভারসাম্য, মনোযোগ এবং সহনশীলতা বাড়ে। খোলা প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর কারণে মানসিক চাপ কমাতেও এটি সহায়ক।

তবে কায়াকিং উপভোগ করতে হলে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, নির্ধারিত এলাকায় থাকা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অসংখ্য নদী, হাওর, বিল ও লেক কায়াকিংয়ের জন্য সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিরাপদ অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কায়াকিং শুধু একটি বিনোদন নয়, দেশের জলভিত্তিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণেও পরিণত হতে পারে। হাজার বছরের ঐতিহ্য বয়ে আনা এই জলক্রীড়া আজ মানুষকে নতুন করে শেখাচ্ছে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে সব সময় গতি নয়, কখনো কখনো বৈঠার ধীর ছন্দই যথেষ্ট।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.