অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা নেত্রকোনার কেন্দুয়ার "কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী" আজও সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষায়। সমাজসেবক ও সাবেক চেয়ারম্যান সালমা আক্তারের একক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এলাকার বিশেষ শিশুদের একমাত্র ভরসা।
কেন্দুয়া পৌর সদরে প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনার কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় পৌর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে ২০১৬ সালে কেন্দুয়া-আঠারোবাড়ী মেইন রোডের কমলপুরে একটি টিনশেড বাড়ি ভাড়া নিয়ে "কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী" প্রতিষ্ঠা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সালমা আক্তার।
শিক্ষক, শিক্ষিকা, আয়া, পিয়ন, ড্রাইভার ও নাইট গার্ড হিসেবে অনেকেই বিনা বেতনে সেবা দিতে এগিয়ে আসেন। তাদেরকে নিয়েই সালমা আক্তার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করেন।
২০১৯ সালে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করার অনুরোধ করা হলে সালমা আক্তারকে সভাপতি মনোনয়ন দেয়া হয়। সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাজিউড়া রোডে, উপজেলা পরিষদ থেকে ৩০০ গজ দূরে কেন্দুয়া পৌরসভাধীন চন্দ্রগাতী গ্রামে নিজের বড় ছেলের নামে কেনা ৩৫ শতাংশ জমি একাডেমির নামে দান করেন। সেখানে ভবন নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয়।
তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলা ও ব্যায়ামের সরঞ্জামও সংগ্রহ করা হয়।
বর্তমানে ২০২১ সাল থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দুয়া পদাধিকারবলে একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে প্রতিষ্ঠাতা সালমা আক্তার অসুস্থতার কারণে এখন আর আগের মতো সময় দিতে পারছেন না।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া জানান, "নিয়োগকৃত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে স্বেচ্ছায় বিশেষ শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বারবার পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়টির স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি হয়নি।"
এলাকাবাসী সালমা আক্তারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের ভবিষ্যতের স্বার্থে "কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী"কে দ্রুত সরকারি করণ ও এমপিওভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া আরও বলেন, "বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব দ্রুত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোকে স্বীকৃতি ও এমপিও প্রদানের নির্দেশ দেবেন। সারাদেশের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।"