চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য শতাংশ হওয়ায় অভিভাবক, সচেতন মহল ও জেলাজুড়ে বইছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকের সংখ্যা ২১ জন। তবে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার ফল প্রকাশের পর থেকেই পুরো দামুড়হুদা ও জেলাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে মাদরাসাটি সারা বছর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নামমাত্র পরিচালিত হয়। অনেক শিক্ষকই নিয়মিত ও যথাযথভাবে ক্লাসে উপস্থিত হন না। শিক্ষকদের দীর্ঘিদিনের উদাসীনতা ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দুর্বল মানের কারণেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুস সামাদ জানান, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় উপস্থিত হতো না। তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. রাফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি ইতিপূর্বে একাধিকবার ওই মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেন এমন শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা ঘটল, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি নিয়ম অমান্য করে সংক্ষিপ্ত সময়ে মাদরাসা পরিচালনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার মান যাচাইয়ে শিক্ষা বিভাগের দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।