দীর্ঘদিনের পানির সংকট কাটিয়ে সুপেয় পানির আওতায় আসতে যাচ্ছে বান্দরবান সদর উপজেলার দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুরে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ ও পানির হাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া হবে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হওয়ায় এসব এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। পাহাড়ের ঢালে বসতি, একদিকে খাড়া পাহাড় আর অন্যদিকে ঝিরি-ছড়া। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়ার পানি কমে গেলে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী ও শিশুরা। ভোর থেকে কলসি, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্র নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেমিডুলু পাড়া ও ইসলামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। ঝিরি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
পানির সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই এলাকায় ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউজ।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শিবলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান। এতে দীর্ঘদিনের পানির দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুরে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে পানির হাউজ নির্মাণের কাজ চলছে। একই চিত্র কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়াতেও। সেখানেও প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পানির হাউজে নলকূপের মাধ্যমে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ করা হবে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে।
ইসলামপুরের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হয়। পানি সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই অনেক কষ্ট করতে হয়। এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানির হাউজ নির্মাণ করছে। কাজটি শেষ হলে পানির সমস্যা আর থাকবে না বলে আশা করছি।
চেমিডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু বলেন, এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবার রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতে হতো। এখন সরকার পানির হাউজ নির্মাণ করছে। কাজটি শেষ হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।
প্রকল্পটি তদারকি করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দুই গ্রামে ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকাবাসীর পানির কষ্ট অনেকটাই কমবে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকায় পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়। নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুটি গ্রামে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে এলাকাবাসীর পানির দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে আশা করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
