× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের আধিক্যতা; মেয়র পদে উদগ্রীব দলের অনেকমুখ; ভোট ব্যাংকে চাঁপ

রাজশাহী ব্যুরো

১৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:১২ পিএম

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ত্রিশটি ওয়ার্ডেই উঁকি দিচ্ছে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের জানান দেয়ার বিষয়টি। বিভিন্ন ধরনের শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যান্যার-পোস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ নিজ ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচিতি বৃদ্ধি ও জানান দেয়ার বিষয়টির যাত্রা শুরু হয়েছে কয়েকমাস আগে থেকেই। পাড়ামহল্লার বিভিন্ন অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের স্টলসহ বিভিন্নস্থানে এখনো উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণার উপকরণগুলো। এছাড়াও স্যোসিয়াল প্লাটফর্মগুলোতে অনুসারিদের প্রচার প্রচারণা ও দোয়া সমর্থন চেয়ে ফটোকার্ডের দৌড়ঝাপের বিষয়টি বেশকিছূ দিন নিস্তব্ধ থাকার পর, নতুন করে আবারো গুঞ্জন শুরু হয়েছে মেয়র প্রার্থীতার বিষয়টি। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক নির্ভর গণমাধ্যমে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে পজিটিভ উপস্থাপন চলমান থাকলেও এবার মূলধারার কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রচার হতে শুরু করেছে বিষয়টি। নানাপন্থায় উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মেয়রপ্রার্থীদের উন্মুক্ত জানান দেবার বিষয়টি।

গত ২৩ জুন’ ২০২৬ ইং তারিখে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পরপরই, অর্থাৎ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।

এই ঘোষণার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের দৌড়ঝাপের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পতিত সরকারের আমলে দীর্ঘসময় ধরে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার সুযোগটা এবার পাচ্ছে দেশের অন্যতম দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। যদিওবা, পতিত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে মেয়রপ্রার্থীর তেমন একটা দেখা না মিললেও কোন কোন ওয়ার্ডে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে দেখামিলেছিল বর্তমান সরকার দলীয় ও বিরোধীদলীয় কিছু নেতাকর্মীকে। কেউবা বিজয়ী হয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্বও পালন করেছেন পুরোটা মেয়াদজুড়েই, কেউবা দ্বিতীয় মেয়াদে এসে দায়িত্ব পালন করেছেন স্বল্পসময়। প্রায় দেড়যুগ পর বাঁধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতাহীন নির্বাচনের সুযোগকে অনেকেই হাতছাড়া করতে চাচ্ছেনা। এই কারনেই হয়তো মহানগরীর অধিকাংশ ওয়ার্ডেই লক্ষ্যকরা যাচ্ছে প্রার্থীর ছড়াছড়ি বলে মন্তব্য স্থানীয় ব্যক্তি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখাগেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডেই এবার সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা অন্যান্যবারের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ। সিনিয়র জুনিয়র ছাড়াও একই দলের একাধিক নেতাকর্মীর প্রার্থীতার জানান দেয়ার বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তুলছে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের। কোন কোন ওয়ার্ডে একই দলের পাঁচ ছয়জন নেতাকর্মীও আছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়। এমনও ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দেয়ার ঘৌড়দৌড়ে নাম লিখিয়েছেন; যার সর্বসাকুল্যে ভোট পাবার সম্ভাবনা আছে তিনশ থেকে চারশ’র মতো। কেউবা পেতে পারেন সর্বোচ্চ সাতশ থেকে আটশ ভোট। আবার এমনও প্রার্থী আছেন, যিনি নির্বাচন করলে নিজদলের হেভিওয়েট প্রার্থীর ভোট ব্যাংকের উপর শক্ত আঘাত হানবে; দলের নিশ্চিত ভোটগুলো বিভক্ত করে জয়ের পদকে করে দেবে রুদ্ধ। এমন ধরনের নানাবিধ কারণে অনেক ওয়ার্ডেই প্রার্থী নিয়ে তৈরি হয়েছে একপ্রকার জগা খিচুড়ি; মন্তব্য স্থানীয় ভোটার ও তৃণমূলের কর্মীদের। বিষয়টি এক প্রকার ভোট ব্যাংকে নিঃশব্দ চাঁপের মতো আঘাত আনার সমতুল্য বলে মন্তব্য তৃণমূলের। ভোট ব্যাংকে এই ধরনের আঘাত পাল্টে দিতে পারে ভোটের ফলাফল। যেটা কিনা নিজদলীয় যোগ্যপ্রার্থীর জন্য বিজয়ের পথকে করবে রুদ্ধ; বলে মন্তব্য স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীর।

এদিকে মেয়র প্রার্থী নিয়েও শহরজুড়ে চলছে নানাকথন। ডিজিটাল ও অ্যানালগ সিস্টেমে সম্ভাব্য ও প্রত্যাশিত মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে চলেছে স্থানীয়ভাবে প্রচার প্রচারণা। মাসখানেক আগেও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শোভা পেয়েছিল বড় বড় ডিজিটাল ও কাপড়ের ব্যানার। অনুসারিদের নামে প্রচারকৃত এই বিশালাকার ব্যানারগুলো রাসিক কর্তৃক অপসারণ করা হয়েছে নগর পরিচ্ছন্নতার কর্মযজ্ঞ চলাকালিন। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়তই ভেঁসে উঠছে একই দলের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পরিচয় ও গুণাগুণ সহ রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়গুলো। নিজ নিজ অনুসারিরা দলের নেতাকে দেখতে চাচ্ছেন আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে। প্রাক্তন-বর্তমান ও নতুনদের অনুসারিরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একপ্রকার ঝড় তুলেছেন নিজেদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে। কে যোগ্য, কে পারবে, কে ত্যাগী, কার রয়েছে প্রাপ্যতা, কাকে দিলে কি হবে, আগে ও পরে কে কি করেছে, কে কার অনুসারি এসব নিয়ে চলছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের হালচাল।

তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, একই দলের একাধিক প্রার্থী হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরতে পারে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কারণ হিসেবে তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গত ২১ জুন ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সপ্তম (৭ম) নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কোন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করেনি। তবে, নিজ দলীয় কিছু কাউন্সিলর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। অনেকেই পরেছিলেন বিজয়ের মুকুট। সর্বশেষ রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরমধ্যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এর প্রার্থী ছিলেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুর্শিদ আলী, জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ার, জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন। সেই ৭ম রাসিক নির্বাচনে আ’লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী লিটন জয় লাভ করলেও অন্য তিনজন প্রার্থী মিলে একত্রে পেয়েছিলেন মোট ভোটের প্রায় ১৯ শতাংশ। সেহিসেবে আসন্ন রাসিক নির্বাচনে সর্বশেষ সেই তিনজনের প্রাপ্ত ১৯ শতাংশ ভোট, মোট ভোট থেকে স্বভাবতই কর্তন যাবে। সময়ের পরিক্রমাই সেই কর্তন মার্জিনের হার আরোবেশি হতেও পারে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ও হারানো ভোটের ইতিহাস সেটিই বলে।

সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সিটি অর্থ্যাৎ সদর আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দলীয় মনোনীত হেবিওয়েট এমপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু (বর্তমানে ভূমি মন্ত্রী) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬টি। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এমপি প্রার্থী ডাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৭০টি ভোট। জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২৮ হাজার ১৭৬টি ভোটের। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন।  রাসিকের ত্রিশটি ওয়ার্ডের সাথে উক্ত ভোট ব্যবধানের গড় হিসেবে; প্রতিটি ওয়ার্ডে জয় পরাজয় নির্ভর করেছে মাত্র ৯৩৯ ভোটের উপর। সেবিবেচনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মেয়র পদে নির্বাচনে যদি একই দলের একাধিক প্রার্থী থাকে; তাহলে বিজয় ছিনিয়ে আনার বিষয়টি বেশকঠিণ হয়ে পরবে বিএনপির জন্য বলে মন্তব্য স্থানীয় ভোটার ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে একই ওয়ার্ডে অধিক সংখ্যক স্বতন্ত্রপ্রার্থীর বিষয়টি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বেশ বড় রকমের শঙ্কার কারণ হতে পারে। একইবস্থা বিরাজ করতে পারে মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রেও। সার্বিক বিবেচনায় রাসিক নির্বাচনে এবার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয় পরাজয় নির্ভর করবে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার দুয়াড় উন্মোচন করে দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সুনজর দেয়া বলেও মন্তব্য সিনিয়র ব্যক্তিদের।  

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.