× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তথ্য প্রাপ্তির আবেদন, চাহিদার তথ্যের বদলে সাধারণ জবাব: প্রশ্নের মুখে মনোহরপুর ইউপি

আব্দুল্লাহ আল মামুন।

১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২২ পিএম । আপডেটঃ ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নূর আলম বরাবর ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছিলেন আবেদনকারী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দেওয়া জবাবে চাহিদা অনুযায়ী এসব তথ্যের বিস্তারিত হিসাব, তালিকা কিংবা নথির কপি দেওয়া হয়নি। বরং পরিষদের ‘গোপনীয়তা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তথ্য সরবরাহে অপারগতা জানানো হয়েছে।

আবেদনপত্রে ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বার্ষিক বাজেট চাওয়া হয়। একই সঙ্গে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এলজিএসপির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর তথ্য এবং নির্দিষ্ট রাস্তা সংস্কার বা কালভার্ট নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ ও কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার হিসাবও চাওয়া হয়।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বয়স্ক, বিধবা এবং পঙ্গু/প্রতিবন্ধী ভাতার উপকারভোগীদের তালিকা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ভিজিডি/ভিজিএফ কার্ডধারীদের নাম ও বিতরণের পরিমাণের তথ্যও চাওয়া হয়।

প্রশাসনিক ও সাধারণ তথ্যের অংশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কী কী নাগরিক সেবা দেওয়া হয় এবং প্রতিটি সেবার জন্য কত টাকা ফি নেওয়া হয়, তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা এবং উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভার সিদ্ধান্তের কপি চাওয়া হয়।

এছাড়াও ইউনিয়ন এলাকায় কতগুলো ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে এবং ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হাট-বাজার, ইজারার তথ্য চাওয়া হয়।

গ্রাম আদালতের ক্ষেত্রে আবেদনকারী জানতে চেয়েছেন, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কতটি মামলা চলমান ছিল এবং কতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তার পরিসংখ্যান। একই সঙ্গে ইউনিয়নের অধীনে থাকা খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তির তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

আবেদনের জবাবে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রমের সাধারণ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয় এর কার্যক্রম পরিষদের সভার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় বলেও জানানো হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি উপজেলা সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা জানানো হলেও আবেদনকারীর চাওয়া উপকারভোগীদের তালিকা ও বিতরণের পরিমাণ সরবরাহ করা হয়নি।

নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ রয়েছে এবং সেখানে সেবার নিয়ম ও নির্ধারিত ফি উল্লেখ আছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু আবেদনকারীর চাওয়া সেবা ও ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে সরবরাহ করা হয়নি।

ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়ে জবাবে শুধু জানানো হয়েছে, এটি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম এবং নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। কিন্তু আবেদনকারীর চাওয়া কতটি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে সে সংখ্যা জবাবে দেওয়া হয়নি।

হাট-বাজার ইজারার বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের প্রক্রিয়া এবং ইজারা কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলা হলেও কোন হাট-বাজার কত টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, এমন নির্দিষ্ট তথ্য নেই। একইভাবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকার কথা বলা হলেও আবেদনকারীর চাওয়া মামলার সংখ্যা ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

সবশেষে ইউনিয়ন পরিষদের জবাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর চাওয়া তথ্য সরবরাহ করলে পরিষদের ‘গোপনীয়তা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন’ হতে পারে এবং এলাকার জনসাধারণের উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য প্রদান সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক আয়-ব্যয়, বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও ব্যয়, সরকারি ভাতার উপকারভোগী তালিকা, ট্রেড লাইসেন্স, হাট-বাজার ইজারা, গ্রাম আদালতের মামলার পরিসংখ্যান ও সভার সিদ্ধান্তের মতো তথ্যের কোন অংশটি ‘গোপনীয়’ এবং কোন আইনি বিধানের আওতায় তা গোপন রাখা হয়েছে, জবাবে কি তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে?

আবেদনকারী বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য চাননি, বরং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং জনসেবা-সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়েছেন। তাই চাহিদার তথ্যের পরিবর্তে সাধারণ কার্যক্রমের বিবরণ এবং ‘গোপনীয়তা ও ভাবমূর্তি’র যুক্তিতে তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, যেহেতু তথ্য আইনে আবেদন করা হয়েছে, জবাবে যদি সন্তুষ্ট না হন তাহলে আইনানুগভাবে আপিল করার সুযোগ আছে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.