× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মতলব উত্তরে ট্রান্সফরমার চুরির মালামাল উদ্ধার, ভাঙারি ব্যবসায়ী টানা আনোয়ার আটক

মো. তুহিন ফয়েজ,মতলব (চাঁদপুর)

২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৯ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় টানা আনোয়ার নামে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি পিকআপভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর থানার এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে অভিযানে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকা থেকে একটি পিকআপভ্যান'সহ বিপুল পরিমাণ মালামাল আটক করা হয়। পরে পিকআপটি ও উদ্ধার করা মালামাল থানায় নেওয়া হয়।

এদিকে মাত্র দেড় মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিক চুরি বন্ধে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের অভিযান আরও জোরদার এবং চোরচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনাস্থলে মালামাল পরীক্ষা করে জানান, উদ্ধার করা তামার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের ভেতরে ব্যবহৃত মালামালের সঙ্গে মিলে যায়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, এলাকায় ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের নেতৃত্বে ছিলেন এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল ইসলাম।

ওসি বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে টানা আনোয়ার নামে পরিচিত একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, আনোয়ার ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অথবা চুরি করা মালামাল তার কাছে বিক্রি করা হতে পারে।

পরবর্তীতে চুরি করা মালামাল একটি পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। প্রথমে পিকআপটি নিশ্চিন্তপুর এলাকায় রয়েছে বলে জানা গেলেও পরে সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সোর্স, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় শনিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পিকআপটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিকআপটি তল্লাশি করে ট্রান্সফরমারের ভেতরে কয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা এসব মালামাল ট্রান্সফরমারের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।


তিনি বলেন, এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে প্রায় তিনটি মামলা করেছে। মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তি আরও কোনো ট্রান্সফরমার চুরি বা চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত কি না এবং তার সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গত জুলাই মাস থেকে চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চোরেরা নিয়ে যাচ্ছে। এতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি গ্রাহকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত পুরো চোরচক্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে চুরি প্রতিরোধে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে ব্যাপক মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ কাজে মতলব উত্তর থানার পুলিশও সহযোগিতা করছে।

পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বলেন, সাধারণ মানুষ এখন আগের তুলনায় বেশি সচেতন হয়েছেন। কোথাও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু লোডশেডিং মনে না করে স্থানীয়রা ট্রান্সফরমারের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ধরনের সচেতনতার কারণেই সম্প্রতি কয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যার মালিক জনগণ। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রাহকদের নিজ এলাকার ট্রান্সফরমারের দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে আলো ফেলে বা সরেজমিনে দেখে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশকে জানাতে হবে।

ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে ডিজিএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমারের মূল্যের অর্ধেক টাকা গ্রাহকদের বহন করতে হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ কেভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমারের সরকারি মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রথমবার চুরি হলে গ্রাহকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হয় এবং এরপর নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহ করা হয়। তবে একই স্থানে দ্বিতীয়বার ট্রান্সফরমার চুরি হলে পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়, তখন সরকারিভাবে আর ভর্তুকি দেওয়া হয় না।

মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চুরি করা মালামাল কোথায় যাচ্ছে, কারা এগুলো কিনছে এবং চোরচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে আরও কোনো ঘটনায় জড়িত কি না, অথবা তাদের সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.