২০১৪ সালে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের ভানুবীল গ্রামে পিতা শরীফ আলী কর্তৃক সাড়ে ৩ বছরের শিশু রুনা বেগমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অপরাধে পিতাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও এ ঘটনায় আসামী শরীফ আলীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হক একযোগ আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করে আদেশ দেন।
রায়ে আদালতের আদেশে বলা হয়, কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভানুবিল গ্রামের মৃত আরিফ মিয়া এর ছেলে আসামী মোঃ শরীফ আলী এর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় আনীত অভিযোগ সকল সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হলো।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৩ টার দিকে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ সালেক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে ৩ বছর বয়সী কন্যা শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করেন পিতা মোঃ শরীফ আলী (৪২)। এ ঘটনায় শরীর আলীর স্ত্রী নেকজান বিবি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘ একযোগ পর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় শরীফ আলী তার সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে রুনা বেগমকে দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের দায় সালেক মিয়ার ওপর চাপিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই নিজ মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে।
এ ঘটনায় আদালতের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রাষ্ট্র পক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট তোফায়েল আহমেদ জানান, আসামি শরীফ আলী আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন এই রায়ের মাধ্যমে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আসামী পক্ষের আপিলের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।