পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে (৪১) এলোপাতাড়ি গুলিতে জখম করার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের রাতের দিকে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর শিমুলতলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম শরীফ সশরীরে ঈশ্বরদী থানায় উপস্থিত হয়ে নিজেই বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে এই এজাহার দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলাম নিজের প্রাইভেট কার চালিয়ে জয়নগর শিমুলতলা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে আসামিরা তার গাড়ির গতি রোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং ১ নম্বর আসামি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুব কাছ থেকে পায়ে ও মুখের ভেতরে গুলি করেন।
এরপর ২ ও ৫ নম্বর আসামি মুকুল হোসেনসহ অন্যান্যরা চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপান। এছাড়া গাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। শরিফ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছেন বলেই তার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
থানায় সাংবাদিকদের কাছে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ দাবি করেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশেই তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাকারীরা সবাই জেলা বিএনপির আহ্বায়কের অনুসারী।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।