পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদীনগরে আওলাদে গাউছুল আজম দস্তগীর ‘মিরসরাই পীর’ হযরত সৈয়দ আবুল ওলা সৈয়দ সাহেব (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণস্থ বাড়িতে কুরআন খতম, দরুদ শরিফ, আলোচনা, জিকির, নাতে রাসুল (সা.), মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
সৈয়দ সাহেব (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ ফখরুদ্দিনের তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে আলেম-ওলামা, হাফেজ, মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
সৈয়দ ফখরুদ্দিন বলেন, “সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে নবী-রাসুলগণের ধারাবাহিকতায় যে রাসুলের আগমনের সুসংবাদ প্রতিফলিত হয়েছে, সেই শেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)-এর দুনিয়ায় তাশরিফ আনার মাধ্যমে মানবতার ভাগ্যাকাশে হেদায়াতের পূর্ণ নূর উদ্ভাসিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলার হাবিব, রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বিলাদত সমগ্র জাহানের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনন্ত অনুগ্রহ। তাঁর শুভাগমনে মানবজাতি লাভ করেছে হেদায়াতের পূর্ণাঙ্গ দিশা, ঈমানের আলো এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের সুস্পষ্ট পথ। পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মুমিনের জন্য সেই হেদায়াতের পথে চলার মূল পথনির্দেশ। প্রিয় নবী (সা.)-এর বিলাদতের স্মরণ মুমিনের হৃদয়ে যে শুকরিয়া, দরুদ ও মহব্বতের অনুভূতি জাগ্রত করে, তা মহান আল্লাহর এই অতুলনীয় নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, “নবীপ্রেম মুমিনের অন্তরের এমন এক নূর, যা মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর আনুগত্যের পথে এগিয়ে নেয় এবং ঈমানকে দৃঢ় করে। মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবন ছিল তাকওয়া, সবর, শোকর, দয়া, ক্ষমা ও উত্তম আখলাকের পূর্ণতম আদর্শ। তাঁর প্রতি সত্যিকারের মহব্বত কেবল হৃদয়ের অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর সুন্নাহ, আমল ও আখলাক অনুসরণের মধ্য দিয়েই তা জীবনে প্রকাশ পায়। তাই মিলাদুন্নবীর শিক্ষা হলো প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা অন্তরে ধারণ করে তাঁর পবিত্র আদর্শকে জীবনাচরণে প্রতিফলিত করা এবং উনি উম্মতের জন্য যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা পরিবার, সমাজ ও সামগ্রিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা।”