রাজশাহীর এয়ারপোর্ট থানাধীন বিরস্তইল এলাকায় সাত বিঘা জমি নিয়ে প্রতারণা ও চেক ডিজঅনার মামলায় গ্ৰেফতার হয়েছে মাহাবুব রহমান নামের এক ব্যক্তি। তিনি বিরস্তইল এলাকার মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ বায়া ব্রাক স্কুলের সামনে থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মাহাবুবকে গ্ৰেফতার করে।
এর আগে বারইপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম রাজশাহী জেলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (এয়ারপোর্ট থানা) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নেগোসিয়েবুল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় তিনটি মামলা করেন। যার মামলা নং ৬৫-সি/২০২৩।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বমোট তিনটি মামলা করেন বাদী আমিনুল ইসলাম। মামলা তিনটি নম্বর যথাক্রমে ৫৩-সি/২০২৩, ৫৫-সি/২০২৩ ও ৬৫-সি/২০২৩। এরমধ্যে দুইটি মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মাহাবুব রহমানকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ২৭ আগস্ট'২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যায় গ্ৰেফতার করে।
মামলার কপি ও ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্য থেকে জানাগেছে, ২০২৩ সালে এয়ারপোর্ট থানাধীন চারচিটের মোড় এলাকায় বাদী আমিনুল ইসলামের সাথে অভিযুক্ত মাহাবুব রহমানের (৫০) সাথে সাত বিঘা জমি উন্নয়নপূর্বক প্লট আকারে বিক্রির চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত জমি উন্নয়নপূর্বক প্লট আকারে বিক্রির পর নীট প্রফিট বা লভ্যংশ চুক্তিনুযায়ী উভয়ের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হবার কথা ছিলো। সে লক্ষে জমির মালিক আমিনুল ইসলাম ২০২৩ সালে অভিযুক্ত মাহাবুবকে উক্ত সাত কাঠা জমির পাওয়ার অফ এ্যাটর্নি প্রদান করেন। যার বিপরীতে অভিযুক্ত মাহাবুব জমির মালিককে ৪০ লাখ টাকার আলাদা আলাদা তিনটি চেক প্রদান করেন।
জমির মালিকের সরল বিশ্বাসকে ঢাল করে মাহাবুব উক্ত জমি উন্নয়নপূর্বক প্লট আকারে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের সহধর্মিনীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। বিষয়টি জমির মালিক অবগত হবার পর মাহাবুবের ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের দেয়া তিনটি চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক তিনটি ডিজঅর্নার হিসেবে গণ্য করে। অর্থ্যাৎ উক্ত হিসাবে অপর্যাপ্ত টাকা থাকায় চেক তিনটি ডিজঅর্নার হিসেবে গণ্য হয়।
এবং তারই প্রেক্ষিতে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজশাহী জেলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (এয়ারপোর্ট থানা) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নেগোসিয়েবুল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় তিনটি মামলা করেন। উক্ত মামলায় রায় প্রদান শেষে মাহাবুব রহমানের নামে গ্ৰেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এবং অবশেষে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ মাহাবুবকে গ্ৰেফতার করে।