× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে সেবার নামে খারাপ আচরণ ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর

২৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৫ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে চরম হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের সুলভ মূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার এই কেন্দ্রটিতে এখন দালালচক্র ও উদাসীন পরিবেশের রাজত্ব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা।

নামমাত্র ২৫০ শ্যায্যার এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে সাধারণ রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

দালালের উৎপাতে হাসপাতালের ভেতর দালাল চক্রের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। চিহ্নিত দালালরা (যেমন জীবন, বিল্লাল, মিন্টু ও আজিজ) রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। এমনকি দালালদের জরুরি বিভাগের টেবিলে বসে চিকিৎসাপত্র লিখতে ও ড্রেসিং করতেও দেখা গেছে।

ওষুধ ও সরঞ্জাম চুরি করে, বিভিন্ন সময় হাসপাতালের স্টোররুমে অনিয়ম ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। অতীতে বিশ্ব ইজতেমার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ চুরির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শকেরা স্টোর রুম সিলগালা পর্যন্ত করেছিলেন।

নামসর্বস্ব শয্যা ও জনবল সংকটে হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

কর্মচারীদের অসদাচরণে বহিরাগত ও কিছু অসাধু আউটসোর্সিং কর্মীর বিরুদ্ধে রোগীদের মারধর বা হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার মতো অনৈতিক অভিযোগও থানায় নথিবদ্ধ হয়েছে।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আল আমিন নামের এক ব্যক্তি এই হাসপাতালে সেবা নিতে যান। তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, হাসপাতালের গেটে পা রাখতেই স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা তাকে ঘিরে ধরে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো হয় না—এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দালালরা বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে।

আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল সেবা নিতে গিয়ে দেখি এখানকার পরিবেশ ও আচরণেই অর্ধেক সুস্থতা হারিয়ে যায়। ইমারজেন্সিতে গুরুতর বা সিরিয়াস অবস্থার রোগী এলেও তারা সময়মতো গুরুত্ব পায় না, বরং রোগীরা পড়ে থাকে। চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে সাধারণ সেবার চেয়ে আড্ডা আর নিজেদের মধ্যে বিতর্কই বেশি চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্যের টিকিটে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাহানায় সরকারি হাসপাতাল থেকে কৌশলে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীরা তাৎক্ষণিক সেবা না পেয়ে মেঝেতে বা স্ট্রেচারে পড়ে থাকার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান নিয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সচেতন মহল ও স্থানীয়রা অবিলম্বে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরাতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এবং সক্রিয় দালালচক্রকে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গাজীপুর জেলা প্রধান সিভিল সার্জন ডা: মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, দালালদের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিক থেকে অভিযোগ এসেছে, দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। হাসপাতালে লোকবল সংকট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের আরএমও কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত আছেন কি না সেটি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.