গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে শিশুদের পছন্দের শীর্ষে থাকা আইসক্রিম এখন পরিণত হয়েছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। নেত্রকোনা সদর উপজেলা বাংলা ইউনিয়নে সৈয়দপুর গ্রামে মিজান নামে এক অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ আইসক্রিমের ব্যবসা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুমোদনহীন ও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ আইসক্রিম কারখানার নেটওয়ার্ক। বিএসটিআই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ক্ষতিকর রাসায়নিক ও টেকনিক্যাল গ্রেডের উপাদান দিয়ে তৈরি এসব আইসক্রিম দেদারছে বিক্রি হচ্ছে অলিগলির দোকান থেকে শুরু করে স্কুলের সামনে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে।
নোংরা পরিবেশ অধিকাংশ অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, যেখানে ময়লা-আবর্জনা এবং পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ রয়েছে।
আইসক্রিম তৈরিতে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সুয়ারেজ বা পাম্পের অনিরাপদ ও জীবাণুযুক্ত পানি।
ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার দুধ ও ক্রিম ছাড়াই আইসক্রিম জমাট বাঁধাতে এবং ঘন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ের রং, টেকনিক্যাল গ্রেডের সোডিয়াম সাইট্রেট, স্যাকারিন এবং বিভিন্ন নিষিদ্ধ কেমিক্যাল।
মানহীন মোড়কজাতকরণ নেই কোনো উৎপাদন বা মেয়াদের তারিখ নিম্নমানের পলিথিনে মোড়ানো এসব পণ্যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয়।
শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব চিকিৎসকদের মতে, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর এসব আইসক্রিম খাওয়ার ফলে শিশুদের শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাবে ঘটতে পারে
টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসের মতো পানি বাহিত রোগ। কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি। পেটের পীড়া, বমি ভাব এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং পুষ্টিহীনতা।
মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু কারখানা সিলগালা ও জরিমানা করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা গোপনে আবারও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজ
বিএসটিআই এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী অনিবন্ধিত আইসক্রিম কারখানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ ও ক্ষতিকর খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়া এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।