ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইমামুল বিশ্বাস (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত ৩১ আগস্ট সোমবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার সুরাট ইউনিয়নের চুটলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইমামুল ওই গ্রামের মতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে এবং পেশায় স্যানিটারি মিস্ত্রি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমামুল আত্মগোপনে চলে গেছে। অন্যদিকে, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটির মা ছোট সন্তানকে সাথে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ শহরে যান এবং বাবা পেশাগত কাজে বাইরে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটিকে প্রতিবেশী লাল্টু বিশ্বাসের বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, লাল্টু বিশ্বাস অভিযুক্ত ইমামুল বিশ্বাসের আপন চাচাতো চাচা। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে ইমামুলের সুসম্পর্ক ছিল এবং শিশুটি তাকে ‘মামা’ বলে ডাকত। এই সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে "কবুতর দেখতে যাওয়ার" ছলে ফুসলিয়ে শিশুটিকে নিজের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে বাথরুমের ভেতর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায় ইমামুল। পরবর্তীতে চাচার স্ত্রী বিথী খাতুন ও তার ছেলে সন্দেহবশত শিশুটির বাড়িতে গেলে ইমামুল দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করতে এবং আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সালিশে আপস করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগীর পিতা আজাদ রহমান জানান, আমরা কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। অভিযুক্ত ইমামুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"