চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৫০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতির একটি চালান ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করল। এর ফলে বেপজার আওতাধীন আটটি ইপিজেড ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে দেশে চালু শিল্পাঞ্চলের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কম্পানি লিমিটেড’। গত ৩ সেপ্টেম্বর বেপজা থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে প্রথম চালানটি পাঠায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা শতভাগ রপ্তানিমুখী এ কারখানাটিতে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনের যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা হয়। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি বেপজার অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ দশমিক ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বর্তমানে এতে ২৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন।
নতুন বাজারে এই চালানের গুরুত্ব তুলে ধরে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর নির্বাহী পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান গনমাধ্যমকে বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম। এ প্রেক্ষাপটে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে দেশটিতে রপ্তানি শুরু হওয়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রম সহজতর করতে মিরসরাইয়ে ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ৫৫ একর আয়তনের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও ২ নামে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫টি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এ বরাদ্দ পাওয়া ১৮টি কারখানার মধ্যে লিজ টোব্যাকো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও রপ্তানিতে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কারখানার নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।