ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭ নং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. দলিল উদ্দীনের বিরুদ্ধে ভূমি-সংক্রান্তি বিভিন্ন সেবা প্রদানে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও ফুটেজ দৈনিক সংবাদ সারাবেলার হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কার্যালয়ের অভ্যন্তরে টেবিলের পাশে দাঁড়ানো এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা গুনে পকেটে রাখছেন ওই কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য চলছে। সেবার ধরনভেদে ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সাংবাদিকদের একটি দল ছদ্মবেশে নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে যায়। অনলাইনে নামজারির সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও ভূমি কর্মকর্তা পুরো নামজারির চুক্তি বাবদ সরাসরি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে সম্মতি জানিয়ে তিনি স্পষ্টই বলেন, "তাহলে ৫ হাজার টাকাই দিয়েন।"
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে কোনো প্রাক-নিয়োগপ্রাপ্ত কম্পিউটার অপারেটর নেই। বেআইনিভাবে তহশিলদারের ছেলে অফিসে বসে অনলাইনে নামজারির প্রসেসিং, খতিয়ান সংশোধন ও সরকারি স্পর্শকাতর ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর ছেলে কম্পিউটারে সরকারি কাজ পরিচালনা করার সময়েই কর্মকর্তা নিজে অন্যান্য সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করছেন।
ভিডিও চিত্র ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অনুনয়-বিনয় করে সাংবাদিকদের পকেটে টাকা গুঁজে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালান অভিযুক্ত তহশিলদার। পরে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ঘুষ গ্রহণের কথা স্বীকার করে বলেন, "আমার আর মাত্র এক মাস চাকরি আছে, আপনারা নিউজ না করে কিছু খরচাপাতি নেন।" এ সময় ভবিষ্যতে আর ঘুষ না খাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রাণী সরকার জানান, আইন অনুযায়ী সরকারি অফিসে বহিরাগত দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানো এবং অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা একই সঙ্গে দাপ্তরিক 'অসদাচরণ' এবং ফৌজদারি অপরাধ। সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ যাচাই সাপেক্ষে অভিযুক্ত তহসিলদারের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।