× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হরিণাকুন্ডুতে ভূমি কর্মকর্তা ও দালালের যোগসাজশে ঘুষ বাণিজ্য: জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা

এম. এইচ রুবেল, ঝিনাইদহ

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৯ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

কাগজে-কলমে ভূমি সেবা এখন শতভাগ ডিজিটাল। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন ও নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই পরিষেবা পাওয়ার কথা সেবাপ্রার্থীদের। তবে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৫নং কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রতন মুহরির যোগসাজশে সেখানে অনিয়মের চক্র গড়ে উঠেছে।

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাজ সহজে হয় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রতন মুহরিকে মধ্যস্থতাকারী বানিয়ে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করা হয়। রতন মুহরি প্রকাশ্যে টাকা আদায় করেন, যা পরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা হয়। সম্প্রতি অনুসন্ধানী দলের ক্যামেরায় রতন মুহরির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা নেওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে।

​সম্প্রতি ছদ্মবেশে কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনুসন্ধান চালানো হয়। ছদ্মবেশী প্রতিবেদকেরা নামজারি ফি কত জানতে চাইলে সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সরাসরি ৪ হাজার টাকার চুক্তির কথা বলেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম। ৪ হাজার টাকা দিলে কোনো জটিলতা ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দেন তিনি। পুরো দরদামের দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।

​শুধু নামজারি নয়, জমিজমার খাজনা বা দাখিলা কাটাতে গেলেও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। সরকারি নিয়মে ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা ফি ১০ টাকা হলেও এক সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা দাবি করে তা আদায় করা হয়।

​ভুক্তভোগী এক সেবাপ্রার্থী বলেন, "১০ টাকার দাখিলার জন্য আমাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। আর ফাইল রতন মুহরির মাধ্যমে না গেলে সই হয় না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।"

অনুসন্ধান শেষে নামজারি ও দাখিলার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ এবং রতন মুহরির মাধ্যমে টাকা আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে ভিডিও ফুটেজ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে দেখে ঘাবড়ে যান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম। তিনি প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং নানাভাবে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টা চালান।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি বিভাগীয় মামলা ঝুলছে। বিভাগীয় মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইলফোনে জানতে চাইলে হরিণাকুন্ডু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)  সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.