কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি খয়েরী ফণীমনসা সাপকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে। পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগ্রহ করে আনা কলার ছড়ি নামানোর সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একটি কলার আড়তে সাপটি দেখতে পান ব্যবসায়ীরা। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সেটি নিরাপদে উদ্ধার করেন।
ঘটনাটি শুধু একটি সাপ উদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও কলার ছড়ির সঙ্গে ফণীমনসা সাপ বাজারে চলে আসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে পাহাড়ি বা বনসংলগ্ন এলাকা থেকে বাজারে আসা কৃষিপণ্যের পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় বন্যপ্রাণীর অনিচ্ছাকৃত স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
বুধবার শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের একটি কলার আড়তে সাপটি দেখতে পেয়ে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
স্বপন দেব সজল বলেন, উদ্ধার করা সাপটি খয়েরী ফণীমনসা। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের সাপ কলার ছড়ি বা এর আশপাশে আশ্রয় নিতে পারে। পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা কলার ছড়ির সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাপটি বাজারে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কলার ছড়ির ভেতরে সাপ থাকার বিষয়টি আগে থেকে বোঝা কঠিন। ফলে পণ্য নামানো বা সরানোর সময় অসতর্কতা থেকে মানুষের সঙ্গে সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বুধবারের ঘটনাতেও সাপটি দেখতে পাওয়ার পর আড়ত এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কলার ছড়ির ভেতর লুকিয়ে সবুজ ফণীমনসা সাপ বাজারে চলে আসার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সাপ উদ্ধারের পর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বন ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অনিচ্ছাকৃতভাবে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। তাই এ ধরনের প্রাণী দেখতে পেলে আতঙ্কিত হয়ে মেরে ফেলার পরিবর্তে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া জরুরি।
উদ্ধারের পর খয়েরী ফণীমনসা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।