ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি, অভাব-অনটন ও সমস্যা আসতে পারে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় জাফর নগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ইউএনও ফখরুল ইসলাম বলেন, জাফর নগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের সুনাম ও গৌরব ধরে রাখতে পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পেছনে কেউ কিছু বললে তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে একদিন সফলতা আসবেই।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। সূচনা বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু শ্যামল কান্তি রায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহমিনা তামান্না, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কামাল কদর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সাবেক পৌর কমিশনার সেলিম উদ্দিন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এনামুল বারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইনুল কামাল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা হাজী আবু তাহের, বিএনপি নেতা বাবু জিতেন্দ্র নারায়ণ দাস নাটু, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরী, নুরুদ্দিন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য সাংবাদিক এম জামশেদ আলম, অভিভাবক প্রতিনিধি মোবারক হোসেন ও ইক্তিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়াসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও মতামত তুলে ধরেন বক্তারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওসি মো. মহিনুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অনুপযুক্ত বিভিন্ন কনটেন্টের সংস্পর্শে এসে তারা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই সন্তান ঘুমাতে যাওয়ার পরও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে, তারা সত্যিই ঘুমিয়েছে, নাকি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে হবে। একদিন তোমরাও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে পারবে। তোমাদের সফলতার মধ্য দিয়েই বাবা-মায়ের কষ্ট সার্থক হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য সাংবাদিক এম জামশেদ আলম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়কে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় সম্পর্কে কোনো বিষয়ে অভিভাবকদের জানার প্রয়োজন হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা অপতথ্যে কান না দিয়ে সরাসরি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক কিংবা পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রচার না করার জন্যও তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সন্তানের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। এজন্য অন্তত সপ্তাহে একবার অথবা ১৫ দিনে একবার বিদ্যালয়ে ফোন করে কিংবা সশরীরে এসে সন্তানের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
