× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বকেয়া আদায়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন: ‘রোস্ট দেখিয়ে গ্রামীন ফোন খাওয়ায় হাড্ডি’

রাজশাহী ব্যুরো

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৭ পিএম

গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ রাজশাহী শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের বকেয়া আদায়ের দাবি তোলা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলো গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারগণ। যৌথ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রামীণ ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে তোলা হয় অসংখ্য অভিযোগ। এরমধ্যে অন্যতম অভিযোগ ছিলো ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায়ের বিষয়টি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বকেয়া আদায় কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ সেন্ট্রাল টিমের মোবাশ্বের আহসান, রিটেইলার প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন, ডিস্ট্রিবিউটার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সুজন সহ অন্যান্যদের মধ্যে আরো ছিলেন মোরাদ হোসেন, আতাউস সালাম, আসিফ হোসেন, সারাফাত আলী সরকার, সামিউল হক, সুলতান মাহমুদ, মশিউর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিলম্ব ৫ শতাংশ বকেয়া আদায়ের জন্য দেশের অন্যান্য স্থানের মতো অনেকদিন ধরেই রাজশাহীতে আন্দোলন চলছে। বিগত একুশ মাস ধরে চলছে দাবি আদায়ের এই আন্দোলন। গ্রামীন ফোনের কাছে প্রায় ৩৩ হাজার একশ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। রিটেইলাররা বলেন, কেবল বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নয়, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে ন্যায্য সুযোগ, সুবিধা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে গ্রামীন ফোনকে। গ্রাহকরা প্রতিনিয়তই গ্রামীন ফোনের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে হাজির হয় আমাদের কাছে।

রিটেইলারদের প্রতিনিধিরা আরো বলেন, মাঠপর্যায়ে গ্রামীণফোনের সেবা ও পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রিটেইলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের কমিশন ও ব্যবসায়িক সুবিধা ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। তারা কম কমিশন, মাঠপর্যায়ের অতিরিক্ত চাঁপ, বায়োমেট্রিক ও সিম-সংক্রান্ত জটিলতা, অ্যাপ ও ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং ব্যবসা পরিচালনায় স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। মোবাইল কোম্পানীগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্টক এক্সচেঞ্জ এর অন্তর্ভূক্ত হবার পর ডেভিডেন্ট বা মোট লভ্যাংশের ৫ শতাংশ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার নিয়ম থাকলেও বিগত সরকারের আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সেই অধিকার পূরণ হয়নি কারোই। উপরন্তু বিগত সরকারের আমলে বেশকয়েকজন মন্ত্রীর বেআইনী ও স্বার্থান্বেষী হস্তক্ষেপে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রহ হয়েছে অনেকেই। আমাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমরা কখনোই মাঠে নামতেই পারিনি। অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিলে কঠোরহস্তে সেটি দমন করা হয়েছে। ২৪’র পরবর্তী সময়ে সেই ধারবাহিকতা আবারো শুরুর পায়তারা চলছে বলেই মনে হচ্ছে আমাদের কাছে; বলেন আয়োজকরা।

তারা বলেন, একটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সাবেক কর্মী, বর্তমান কর্মী, ডিস্ট্রিবিউটর, রিটেইলার ও গ্রাহক সবার অবদান রয়েছে। তাই প্রত্যেক পক্ষের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখানো একটি সুস্থ ও টেকসই ব্যবসায়িক পরিবেশের পূর্বশর্ত। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘাত সৃষ্টি করা নয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ শুরু করে ন্যায্য পাওনা, ব্যবসায়িক অধিকার ও গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

প্রাক্তন কর্মকর্তা ও গ্রামীন ফোনের ভুক্তভোগী ব্যবসায়িক পার্টনাররা বলেন, সিম রিপ্লেসমেন্টের খরচ, ইন্টারনেট, প্যাকেজ বা বান্ডেলের মেয়াদ ও কলড্রপ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ রযেছে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, নেটওয়ার্ক ইস্যু নিয়ে সেবাগ্রহীতা বা গ্রাহকদের অভিযোগের অন্ত নেই। তারা আরো বলেন, গ্রামীন ফোন প্রথমদিকে তাদের মোবাইল টাওয়ার ও অন্যান্য মেশিনারিজে এরিকসনের মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্ট কোম্পানির ইকুয়েপমেন্ট বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন অনেকক্ষেত্রেই চাইনা নির্ভর হয়ে উঠেছে। চীনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার কারনে নেটওয়ার্ক এখন বেশ দুর্বল। তাই সার্বিক বিবেচনায় বলাই যায়, গ্রামীন ফোন আমাদেরকে রোস্টের লোভ দেখিয়ে সরবরাহ করছে হাড্ডি। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ লাভজনক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গ্রামীন ফোন কোম্পানি। এইধরণের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয় বলে মন্তব্য তাদের।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ইউনিয়ন করার উদ্যোগ নিলে ২১২ জনের চাকরি গিয়েছিলো। তারপর থেকে এখন থেকে ক্রমান্বয়ে চাকুরিচ্যুত হয়েছেন অনেকে। এখন পর্যন্ত ৩৩৬৪ জনকে টার্মিনেট করেছে গ্রামীন ফোন। গ্রামীন ফোনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ন্যায্যতার মাধ্যমে সকল অধিকার পূরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি তোলেন আয়োজকরা।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.