সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখল, সেখানে স্থাপনা নির্মাণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি অর্থ ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ওরফে গ্রেনেট বাবুকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত গত ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখল, ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি অর্থ ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান তাঁর জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থায় তাঁর দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলো স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় বর্ণিত অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় একই আইনের ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী তাঁকে তাঁর পদ থেকে জনস্বার্থে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হলো।
একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৫(১) ও ৩৫(২) ধারা অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা-সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে ১২ কোটি টাকার খাস জমি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি জমি দখল এবং ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠে আসে।
এসব অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়েছে। পরে চেয়ারম্যানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁর দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি আদেশের ফলে কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
