চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোরবান আলী রিফাত (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলীপাড়া গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয় রিফাত। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে সোমবার তাকে ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শোভন কুমার ভৌমিক বলেন, ‘ভোরে রিফাতের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি পুরো সোনাইছড়ি এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগেও একই এলাকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রিফাতের আগে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে রাফসান (২৬), সোনাইছড়িতে মোজাহিদুল হোসেন (৪) এবং সীতাকুণ্ড পৌরসদরে মুনিরা (৫) নামে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান সংরক্ষিত নেই বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের অনেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিআইটিআইডিতে চিকিৎসা নেওয়ায় সীতাকুণ্ডের প্রকৃত সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র স্থানীয় পর্যায়ে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসব তথ্য নথিভুক্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।