মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুনা গ্রামে জন্ম নেয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ আলেম মওলানা ছালেহ আহমদ হামিদী। দেশে আসলে কখনো ওয়াজের ময়দানে, কখনো সভা-সেমিনারে, কখনো মসজিদের মিম্বরে। কখনো কখনো ছুটে যাচ্ছেন হতদরিদ্রদের পাশে। কখনো কখনো তাঁকে দেখা যাচ্ছে বহু দূরের আফ্রিকার দেশে দেশে, গ্রামীণ হাটে-বাজারে, মাদ্রাসা-মসজিদে। আবার কখনো দেখা যায় অফ্রিকার দেশে দেশে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত শিশুদের সাথে খেলা দোলা আর খুশ গল্পে মেতে উঠতে। তাদের সাথে খাবার খেতে এবং ঘুরে বেড়াতে। আধুনিক জমানায় এ যেন এক বিস্ময়কর চরিত্র।
দেশে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত শেষে একেবারে তরুণ বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়ে মনোযোগ দেন নিজ মৌলভীবাজার জেলার আর্তমানবতার সেবায়, দারিদ্র্য পীরিত মানুষের জন্য সেবামূলক উন্নয়ন কাজে। তাঁর এসব কাজের উৎস হচ্ছে যুক্তরাজ্য বসবাস করা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সহ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিরা। তাদের দেওয়া অর্থ সহায়তায় ও নিজের হার না মানা প্রচেষ্টায় দেশে গড়ে তুলেছেন নাজাত ইসলামি মারকাজ। এই নাজাত ইসলামি মিরাজের অন্যতম কর্মযজ্ঞ চলে গরিব অ্যান্ড এতিম ফান্ডের মাধ্যমে।
২০০৭ সালে 'গরিব অ্যান্ড এতিম ট্রাস্ট ফান্ড' (এনজিও নিবন্ধন নং-১৬৫০) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর এই চ্যারিটি সংগঠনের সূচনা হয়। দেশ-বিদেশের মুসলিমদের অর্থ সহায়তায় গড়ে উঠা এই চ্যারিটি ফান্ডের মাধ্যমে নিজ জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় গৃহহীন আর দারিদ্র্য পীরিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহ নির্মাণ, নলক’প স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ, নারীদের স্বনির্ভর করতে সেলাই মেশিন, প্রতিবন্ধী এবং বয়স্কদের হুইল চেয়ার বিতরণ, জেলেদের নৌকা বানিয়ে দিয়ে, বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো সহ জেলাগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনে নিরলস ভূমিকা রাখছে।
মেধাবী এই আলেমের প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে, তাঁর বিশাল এই কর্মযজ্ঞ মাত্র বৃহত্তর সিলেট বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই কর্মযজ্ঞ ছড়িয়েছে দেশের উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও। বিশেষ করে লালমনিরহাট, বাগেরহাট, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে দারিদ্র্য পরিবারে দেওয়া হচ্ছে গৃহ নির্মাণ, মসজিদ, নলকূপ, গবাদিপশু ও সেলাই মেশিন। এমন কর্মযজ্ঞের ফলে এসব অঞ্চলের দারিদ্র্য মানুষের মুখে হাসি ফুটছে। তাদের জীবন-মানেও পড়ছে এর ব্যাপক প্রভাব।
এছাড়াও বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে আফ্রিকার মহাদেশের দেশে দেশে ক্ষুধার্ত, দারিদ্র্য অসহায় নারী, শিশু ও যুবকদের জন্য শান্তির দূত হয়ে আর্ভিবাব হয়েছেন বাংলাদেশি আলেম মওলানা ছালেহ হামিদী। আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, কেনিয়া, সুদান, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মুজাম্মিক, নাইজেরিয়া, গাম্বিয়া দারিদ্র্য দারিদ্র পীরিত দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজের টিম নিয়ে সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন সেখানকার মানুষের দু :খ, দুর্দশা, ক্ষুধার যাতনা আর চরম বৈষম্য‘র দৃশ্য বানিয়ে দিচ্ছেন গৃহ, মসজিদ এবং মাদ্রাসা সম্প্রতি নেপাল ট্র্যাজেডিতে রেখেছেন ভূমিকা। সেখানে ২০ লাখ টাকার মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাজধানী কাটমান্ডুতে বিশাল মাদ্রাসা নির্মাণেও এগিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে তবে গরিব অ্যান্ড এতিম ফান্ডের মাধ্যমে বিগত একদশক ধরে মওলানা ছালেহ হামিদী নীরবে পৃথিবী ব্যাপী অসহায় বঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালালেও দেশের গণমাধ্যমে এসব অনেকটাই অজানা।
সাম্প্রতিক সময়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে দেশ-বিদেশে তাঁর এই মানবিক, সেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশের সংবাদ মাধ্যমকে অবহিত করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরববাজার এলাকায় নিজের প্রতিষ্ঠিত নাজাত ইসলামি মারকাজের প্রধান কার্যালয়ে মৌলভীবাজার জেলার সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসব বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রম নিজেই তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সহ বিশে^র দেশে দেশে গরিব অ্যান্ড এতিম ফান্ডের বিশাল কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ভৈরবের পাশে গড়ে তোলা নাজাত মারকাজ নামক প্রতিষ্ঠানের অধীনে হিফজ সহ কওমি মাদ্রাসা, নাজাত মডেল স্কুল, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া ও ব্রেইল পদ্ধতিতে কোরআন হেফজ করার সুবিধা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে জরুরি সেবায় যুক্ত রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ফ্রি চিকিৎসা ও চক্ষু ক্যাম্প।
২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৫৫টি মসজিদ ও গৃহহীন ১ হাজার পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৪ হাজার ২২টি গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ফ্রি চক্ষু শিবির ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিতরণ করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি হুইলচেয়ার। রিকশা, সেলাই মেশিন, ঠেলাগাড়ি ও হাওরাঞ্চলের জেলেদের মাছ ধরার নৌকা বিতরণের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করা হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে ১৫ হাজারেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ কিয়ার জমিতে নির্মিত হয়েছে সুবিশাল কবরস্থান। শীতবস্ত্রসহ ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।
মওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিশাল এই কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে মূলত লন্ডনপ্রবাসী ও দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায়। আয়-ব্যয় ও অনুদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও দেশীয় আইন-কানুন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করা হয় বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
