নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম পঞ্চপুকুর জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. সুমন রানার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ অনুমতি ছাড়া অপসারণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগকারীদের দাবি, সুমন রানা গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত নেই। তাঁর পরিবর্তে বিদ্যালয়ের কিছু দায়িত্ব শিক্ষকরা পালন করছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন কি না, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া তাঁর পরিবর্তে তাঁর মাকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে অংশ নিতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ এবং আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ মারা যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেটি অপসারণ ও বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে গাছটির আনুমানিক মূল্য ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য রাশিদুল ইসলাম বলেন, “সুমন রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়কোবাদ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. সুমন রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জশিজুল আলম মন্ডল বলেন, “অভিযোগের কোনো অনুলিপি এখনো পাইনি। অনুলিপি পেলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।