সাংবাদিকরা নীতি নৈতিকতা মেনেই সাংবাদিকতা করেন।
আমরা দক্ষতা পরিচয় দিয়েই কাজ করি।
কিন্তু পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে আমাদের অনেক সহকর্মী ভীতসন্ত্রস্ত।
আমি মনে করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকির কোনো কিছুই শুভকর নয়।
সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় সেটি দেখবেন।
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুরের প্রতিটি থানায় কর্মরত মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ভাই-বন্ধু’র এক অলিখিত মিথ তৈরি রয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বা অনিয়ম নিয়ে নিউজ করলে, কিংবা কোনো বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য জানতে চাইলে অনেক সময় দেখা যায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। এর পরপরই সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম—বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ কন্টাক্ট নম্বর ব্লক করে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য সংবাদমাধ্যমের কাছে জবাবদিহি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা বা শাস্তির ভয় থেকে বাঁচতে তারা সাময়িকভাবে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দেন।
পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে সাংবাদিকরা সমাজের ভালো-মন্দ দুই দিকই তুলে ধরেন। কিন্তু অনেক পুলিশ কর্মকর্তা শুধু তাদের ইতিবাচক বা প্রচারণামূলক সংবাদ দেখতেই অভ্যস্ত। কোনো সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশিত হলেই তারা সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ধরে নেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে নম্বর ব্লক করে দেন।
কোনো অপরাধের ঘটনা বা পুলিশের গাফিলতি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে, সেই সংক্রান্ত তথ্য যেন বাইরে না যায় বা সাংবাদিক যেন আর কোনো সম্পূরক প্রশ্ন (Follow-up) না করতে পারেন, সেজন্য যোগাযোগের ডিজিটাল মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও সাংবাদিক উভয় পক্ষই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে যোগাযোগের সরকারি বা দাপ্তরিক নম্বর (যা হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত হয়) ব্লক করে দেওয়া পেশাদার আচরণের পরিপন্থী।
সচেতন মহল ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, পুলিশ ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের। কোনো নিউজে ভুল থাকলে পুলিশ তার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পাঠাতে পারে, কিন্তু যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথও সংকুচিত হয়ে পড়ে।