৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। তাঁর মতো চূড়ান্ত ফলাফলে সাময়িকভাবে মনোনীত আরও ৫৬ জনের নামও এবার প্রকাশিত গেজেটে নেই। তবে তাঁদের বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শাখা থেকে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন বিষয়ে ৬৬৮ জনকে মেধাক্রম অনুযায়ী সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি বিষয়ে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সে সময় পিএসসি জানিয়েছিল।
সেই চূড়ান্ত ফলাফলে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম ছিলেন মো. সোহেল রানা। ফল প্রকাশের পর তাঁর সাফল্যের খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে প্রায় ১০ মাস পর চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ হলে দেখা যায়, সেখানে তাঁর নাম নেই।
গেজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে মনোনীত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে স্থান পায়নি। তাঁদের বাদ দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
গেজেট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সোহেল রানা। পরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইতিহাস বিষয়ে তাঁর মেধাক্রম ছিল প্রথম। চূড়ান্ত গেজেটে তাঁর নাম না থাকায় তিনি নিজেই বিস্মিত। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই এবং আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতাও ছিল না। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বা বিভাগ—কোথাও ছাত্রলীগের কোনো তালিকায় তাঁর নাম নেই।
সোহেল রানা বলেন, “ইতিহাসে মেধা তালিকায় আমার প্রথম স্থান ছিল। আমাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত কেন করা হলো?” এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চান তিনি।
এদিকে সোহেলের মতো আরও কয়েকজন প্রার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে মেধাক্রমে ১৪তম হওয়া বুশরা জাহান ঐশিও রয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর আগের ও পরের মেধাক্রমের প্রার্থীদের নাম গেজেটে থাকলেও তাঁর নাম নেই।
৪৯তম বিসিএসটি মূলত সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শূন্য পদ পূরণের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১ হাজার ২১৯ জন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেয় পিএসসি।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করার শর্তও রাখা হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে প্রথম হওয়া একজন প্রার্থীসহ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা পিএসসির পক্ষ থেকে সোহেল রানা কিংবা বাদ পড়া ৫৭ জনের প্রত্যেকের বিষয়ে পৃথক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
