ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নেত্রকোনা শহরের প্রবেশমুখ সাকুয়া বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ টার্নিংয়ে দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। ব্যস্ত মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, সড়কের ওপর ও পাশে বাজার বসা, যানবাহনের চাপ এবং পথচারীদের ভিড়ে এলাকাটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক নেত্রকোনা বাসস্ট্যান্ড থেকে সাকুয়া এলাকা পর্যন্ত টার্নিং ও যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের সময় যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেগুলোর জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নতুন করে স্থাপনা গড়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে সাকুয়া বাজারের টার্নিং এলাকায় বিকেলে সড়কের ওপর বাজার বসায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলে তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
বিশেষ করে বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন যখন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটি অতিক্রম করে, তখন বাজারে থাকা মানুষের ভিড় ও সড়কের ওপর থাকা দোকানপাটের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নেত্রকোনা শহরের প্রবেশপথ হওয়ায় বাসস্ট্যান্ড থেকে সাকুয়া পর্যন্ত অংশটি প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। এ পথে যানজট সৃষ্টি হলে এর প্রভাব শহরের প্রবেশপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শুধু সাকুয়া বাজার নয়, পুরো প্রবেশপথের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের ডিও লেটারে বাসস্ট্যান্ড থেকে সাকুয়া এলাকা পর্যন্ত যানজটপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ টার্নিংগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধির এ উদ্যোগের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে সড়কটির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সাকুয়া বাজার এলাকায় অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৯ জুলাই সাকুয়া বাজারে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে নিহত হন। এর আগে ২০২২ সালের ১২ মার্চ সাকুয়া বাজারে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিমেন্টবোঝাই বিকল ট্রাকে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় দুজন নিহত হন। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট সাকুয়া এলাকায় সিএনজি ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হন।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এআরএফবির স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সাকুয়া বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ পরিসংখ্যান সরকারি নথির সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে সাকুয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও এগিয়ে চলছে। মগড়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন আর্চ-ধাঁচের সেতুর কারণে এলাকাটি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে সেতু, মহাসড়ক ও বাজার—তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করে একটি দীর্ঘমেয়াদি সড়ক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এখনই নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, সাকুয়া বাজারের টার্নিং থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সড়কের ওপর বাজার বসা বন্ধ, যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড ও সড়কচিহ্ন স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি টার্নিংটির প্রকৌশলগত নকশা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে নিরাপদ ও কার্যকর রুট ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি নিরাপদ করা জরুরি। নেত্রকোনা শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সাকুয়া বাজারকে যানজট ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত যৌথ উদ্যোগ নেবে। এতে একদিকে যেমন সড়কের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে নেত্রকোনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথটির সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলাও ফিরবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
